রাশিয়ায় তরুণীর ২ হাজার বছরের পুরোনো সমাধিতে স্মার্টফোন সদৃশ বস্তু নিয়ে তুলকালাম!

0

বিশ্ব বিচিত্রা ডেস্ক:

২ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এক সমাধিতে পাওয়া গেল ‘স্মার্টফোন’ সদৃশ একটি বস্তু। আর এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুলকালাম! রাশিয়ার বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জলাধারের নিচে অবস্থিত এক তরুণীর সমাধিতে স্মার্টফোনের মতো দেখতে বস্তুটি খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানিয়েছে, পুরনো এ সমাধিটির সন্ধান পাওয়া গেছে রাশিয়ার আলা-তে নেক্রোপলিসের কাছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাঁধের উজানের পানির ৫৬ ফুট নিচে এই জলাধারে এটির সন্ধান মেলে। এর আশপাশে ১১০টি সমাধির সন্ধান মিলেছে। তবে কেউ কেউ বলছেন এখানে ৩২টি সমাধির সন্ধান পাওয়া গেছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, নাতাশা নামে এ ধনাঢ্য তরুণীর সমাধি এটি। তিনি যিশু খ্রিষ্টের চেয়েও আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ২ হাজার ১৩৭ বছর আগে জিওনগু শাসন আমলে জন্ম নেওয়া এ তরুণী দক্ষিণ রাশিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলে বসবাস করতেন। নাতাশার আশেপাশের সমাধিগুলো খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে খ্রিস্টীয় প্রথম শতক সময়ের।

২ হাজার বছরের পুরনো এই বস্তুটি কালো রত্ন-পাথর দ্বারা খচিত। এতে দামি পাথরগুলো সারিবদ্ধভাবে বসানো ছিল। আর এটি ওই তরুণীর পোশাকে সাঁটানো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত পুরোনো সমাধিতে কীভাবে স্মার্টফোন সদৃশ বস্তুটি পাওয়া গেল তার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

পুরনো এই ‘স্মার্টফোন’ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. পাভেল লিওস বলেন, ‘নাতাশার সমাধিটি হুনু-যুগের (জিওনগু)। সেখানে ‘স্মার্টফোন’ পাওয়ায় ব্যাপারটি এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই সমাধির হাড়গোড়ের সঙ্গে বেল্ট বাঁধা ছিল। বেল্টটি চীনের উজহু মুদ্রায় সজ্জিত ছিল। আর সে কারণে এটি কোন সময়ের তা জানতে সুবিধা হয়েছে।’

অন্যদিকে, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়াল হিস্ট্রি কালচারের ড. মেরিনা কিউলুনোভাস্কায়া বলেন, ‘আমরা অবিশ্বাস্যরকম ভাগ্যবান, কারণ ধনী হুন যাযাবরদের প্রাচীন সমাধিগুলো পেয়েছি। আর বিস্ময়কর ব্যাপার হলো সমাধিগুলোতে ডাকাতেরা হানা দেয়নি।’

আগের দিনে পৃথিবীর বহু জায়গায় স্বর্ণ, হীরাসহ নানা দামি জিনিস দিয়ে মৃতকে সমাহিত করা হতো। এ সমাধিগুলো খুঁড়ে অনেকেই এসব সম্পদ চুরি করত।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।