এই ৫টি বীমা কোম্পানি থেকে সাবধান!

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

৫টি বীমা কোম্পানির বিরু’দ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমা পড়েছে। তাদের বিরু’দ্ধে অভিযোগ- পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করছে না। ইতোমধ্যে এসব বীমা কোম্পানির ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আইডিআরএ আমলেও নিয়েছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে টাকা বুঝিয়ে না দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইডিআরএ।

সূত্র জানিয়েছে, ৫টি জীবন বীমা কোম্পানি গ্রাহকের পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাদের দাবি পরিশোধ করছে না। গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। কোম্পানিগুলো হলো- গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বায়রা লাইফ, সানলাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

এর মধ্যে গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরু’দ্ধে আইডিআরএর কাছেই ২ হাজার ৩৪৪ অভিযোগ রয়েছে। পলিসির মেয়াদ শেষ হলেও বছরের পর বছর তারা গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করছে না। এসব পলিসির বিপরীতে সুদ ছাড়া টাকার পরিমাণ ৩ কোটি। কিন্তু সুদসহ হিসাব করলে তা আরও কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এ ছাড়া সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরু’দ্ধে ১ হাজার ২১০ গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭৮৮টি পলিসির টাকা দিচ্ছে না। বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতা মেজর (অব) আবদুল মান্নানের মালিকানাধীন সানফ্লাওয়ার লাইফের বিরু’দ্ধে ১১৫টি অভিযোগ রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মালিকানাধীন বায়রা লাইফের বিরু’দ্ধে ১ হাজার ২৯৪ জন গ্রাহকের অভিযোগ জমা পড়েছে।

এ বিষয়ে আইডিআরএর সদস্য গোকুল চাঁদ দাস বলেন, কয়েকটি কোম্পানি গ্রাহককে পলিসির টাকা দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে আইডিআরএর কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। টাকা পরিশোধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে বাধ্য হয়েই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া।

সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক তাদের পাওনা ফেরত পেতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে ভিড় জমাচ্ছেন।

নিয়মানুসারে একজন গ্রাহক জীবন বীমায় কিস্তিতে টাকা জমা রাখেন। এই কিস্তি মাসিক, ৩ মাস অথবা ৬ মাসের হতে পারে। এসব পলিসির মেয়াদ ৫ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য এই দীর্ঘ সময় তারা স্বল্প আয় থেকে একটু একটু করে কোম্পানিতে টাকা জমা রাখে।

বীমা আইন অনুসারে পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ করতে হয়। আর ৯০ দিনের বেশি হলে বাকি দিনগুলোর সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু কোম্পানিগুলো টাকা পরিশোধ না করে গ্রাহককে বছরের পর বছর হয়রা’নি করছে। এরা পলিসির টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সানফ্লাওয়ার লাইফের পরিচালক জিএম ফারুক খান বলেন, গ্রাহকের দাবি পরিশোধে আমরা সবসময় চেষ্টা করে থাকি। তার পরও যে দাবিগুলো ঝুলে আছে, তা দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম শরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকের দাবি পরিশোধে আমরা অত্যন্ত যত্নবান। প্রতিদিনই আমরা গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করে যাচ্ছি। তবে ক্ষুদ্র বীমায় কিছু সমস্যা আছে। যেখানে কোম্পানির সমস্যা নয়, বীমা গ্রাহকের ঝামেলা। কারণ অনেকের কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে। তবে সব কিছুই আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।