চট্টগ্রামে চোর চক্রের সরদার ‘সাল্লু ভাই’ গ্রেপ্তার

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামে চোরদের ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত মো. সোহেল প্রকাশ সাল্লু ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২৮ আগস্ট) গভীর রাতে নগরীর বাকলিয়ার বগারবিল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল চট্টগ্রাম নগরীতে সক্রিয় একটি চোরের দলের প্রধান। নিজেকে শ্রমিক লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে গত ৬ বছর ধরে সোহেল এই অ’পকর্ম করে যাচ্ছে। যদিও কমিটিতে তার নাম পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারকৃত সোহেল প্রকাশ সাল্লু (৩১) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ধন্যারপাড়ের মৃত মোহন মাঝির ছেলে। থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার শান্তিনগর বগারবিলে ইসলাম ভিলায়।

চট্টগ্রাম নগরীতে বেশ কয়েকটি বড় চুরির ঘটনার এই ‘নাটের গুরু’ সোহেল ওরফে সাল্লুকে (৩৫) বুধবার রাতে নগরীর দিদার মার্কেট এলাকা থেকে একটি দেশি বন্দু’কসহ গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। সোহেল চোরদের কাছ থেকে মালামাল সংগ্রহ করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন।

তিনি নিজেকে বাকলিয়া ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করলেও সংগঠনের স্থানীয় নেতারা বলেছেন, সোহেল ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের আগের কমিটিতে থাকলেও বর্তমান কোনো পদে নেই।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সম্প্রতি আমরা চোর চক্রের ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন নামের একজন আদালতে জবানব’ন্দিতে জানিয়েছে বাকলিয়ার সোহেল তাদের ‘বড় ভাই’। এ ‘বড় ভাইয়ের’ নির্দেশেই নগরীর বাসাবাড়িতে চুরি করে তারা। আর চোরাই মালামাল তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন ‘বড় ভাই’ সোহেল। বিনিময়ে তাদের দেওয়া হয় হাত খরচের টাকা। আর চুরি করতে না পারলেও হাত খরচ দিত সে।

আনোয়ারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে দিদার মার্কেট এলাকা থেকে অ’স্ত্রসহ সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বাসা থেকে ৩টি ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি মহসীন।

গত ২০ অগাস্ট নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন ওরফে মালিঙ্গার সঙ্গে মাসুম আলী ও জিল্লুর রহমান নামের ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই আনোয়ারই ২১ অগাস্ট চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালতে জবানব’ন্দি দেন।

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান বলেন, কোতোয়ালী এলাকায় বিভিন্ন বাসায় চুরির ঘটনায় হওয়া মামলায় আমরা আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। আনোয়ার পুলিশকে কিছু বাসায় নিয়ে দেখিয়েছে কীভাবে প্রবেশ করে চুরি করেছে। এভাবে সে আমাদের থানা এলাকায় ১৭টি বাসা শনাক্ত করেছে। যার মধ্যে ৭টি বাসায় চুরির ঘটনায় আগে মামলা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ধরাবাঁধা কোনো সময় নেই, সুযোগ পেলেই চুরি করে আনোয়ার। তবে সে দরজা দিয়ে কোনো বাসায় ঢোকে না, ভবনের পেছনে পানির পাইপ বেয়ে উঠে বাসায় প্রবেশ করে। যত বড় ভবনই হোক না কেন তারা উঠে যেতে পারে অনায়াসে।

পুলিশের ভাষ্য, আনোয়ার একসময় রাস্তায় কাগজ কুড়াতেন। পরে লোহা কুড়ানোর পাশাপাশি সুযোগ পেলে চুরি করে লোহা বিক্রি করতেন। বছর পাঁচেক আগে বাকলিয়ার বগারবিলের কথিত বড় ভাই সোহেল তাকে বেশি আয়ের লোভ দেখিয়ে বাসাবাড়িতে চুরির পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শেই আনোয়ার বাসাবাড়িতে চুরি শুরু করেন এবং চুরি করা মালামাল কিনে নেন সোহেল।

আনোয়ার ছাড়াও সোহেলের পোষা চোর আছে আরও কয়েকজন। তাদের কাছ থেকে সোহেল প্রতিটি মোবাইল ২ হাজার, ল্যাপটপ ৩ হাজার ও স্বর্ণালঙ্কারের জন্য ৪ হাজার টাকা করে দেয় বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক কামরুজ্জজামান।

টানা ৩/৪ দিন চুরি করতে না পারলে সোহেল তাদের বকাঝকা, এমনকি মারধ’রও করত। আবার চোরদের পকেটে টাকা না থাকলে ইয়া’বা সেবনের টাকাও সে দিত। চুরির মালামাল দেওয়ার পর সে টাকা কেটে রাখা হয় তাদের কাছ থেকে।

কামরুজ্জামান আরও জানান, দলের ৩ জন গ্রেপ্তার হওয়ার সোহেল গা-ঢাকা দেন। আমরা তার বিষয়ে নজরদারি শুরু করেছিলাম। গতকাল সে চট্টগ্রামে আসে। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিদার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া শান্তিনগরে তার বাসায় অভিযান চালিয়েছি। তার বাসা থেকে ৩টি ল্যাপটপ, ১টি ট্যাব, ৭টি স্বর্ণের আংটি, ২টি গলার হার ও ৩টি কানের দুল উদ্ধার করেছি।

পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আনোয়ার কাজীর দেউড়ির একটি বহুতল ভবনের ৪ তলায় ঈদের আগে চুরি করার তথ্য দিয়েছিলে এবং ওই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই চুরির মালামালও সোহেলের কাছে দেওয়ার কথা পুলিশকে দিয়েছেন আনোয়ার।

সোহেলের বাসা থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণালঙ্কার, ১টি ল্যাপটপ কাজীর দেউড়ির বাসাটি থেকে চুরি করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ওই পরিবারের সদস্যরা মালামালগুলো শনাক্ত করেছে। তবে আরও ২টি গলার হার এবং অন্যান্য মালামাল চুরির কথা তারা জানিয়েছে, যা উদ্ধার করা যায়নি।

Spread the love
  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    25
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।