বরগুনায় প্রধান শিক্ষকের যৌ’ন হয়রা’নি, স্কুলে যেতে অনিচ্ছুক ছাত্রীরা

0

বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরু’দ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌ’ন নিপী’ড়নের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার বেতাগী উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. মিজানুর রহমান খান সেই বিদ্যালয়ে এসে অভিভাবকদের কাছ থেকে শিক্ষকের বিরু’দ্ধে উন্মুক্ত অভিযোগ হিসেবে লিখিত নিয়ে গেছেন।

উপজেলার ৬১ নং গাবতলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের বিরু’দ্ধে অভিযোগ, যৌ’ন নিপী’ড়নে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, ৬১ নং গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরু’দ্ধে উন্মুক্ত অভিযোগ হিসেবে লিখিত আনা হয়েছে। সেই লিখিত পর্যালোচনা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

অভিযোগ জানিয়ে ছাত্রীদের দেওয়া সাক্ষাৎকার সংবাদকর্মীদের হাতে রয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার।

অভিযোগ ওঠার পর প্রধান শিক্ষকের বিরু’দ্ধে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

ওই স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্রের উত্তর বলার লোভ দেখিয়ে ছাত্রীদের যৌ’ন হয়রা’নি করে আসছেন আলমগীর। তাছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির উর্ধ্বতন একজনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্কুল বরাদ্দের টাকাও আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ক্লাসে ব্ল্যাকবোর্ডে লেখানোর কথা বলে ছাত্রীদের সামনে ডেকে নিয়ে আপত্তিকরভাবে শরীরে হাত দেন। আবার প্রশ্নপত্রের সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে একাকী লাইব্রেরিতে ডাকেন। সেজন্য ছাত্রীরা তাকে ভয় পায়। এমন শিক্ষক এখানে থাকলে ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেবে।

এ বিষয়ে স্কুলের জমিদাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. মুকুল মৃধার ছেলে আসাদুল বলেন, প্রধান শিক্ষক যদি এসব না করে থাকেন তাহলে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান করতে চান কেনো?

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আকন বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হুম’কি দিয়ে বলেছেন, যদি কেউ আমার বিরু’দ্ধে কথা বলো তাহলে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম নিরু বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষক থাকলে বাচ্চারা কোথায় লেখাপড়া শিখবে?

Spread the love
  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    21
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।