অলৌকিক নির্দেশে মানিকগঞ্জে নির্মিত হলো দেশের সবচেয়ে বড় ডেগ, রান্না হবে ১০১ মণ!

0

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ (খাবার রান্নার পাতিল বিশেষ) তৈরি হয়েছে মানিকগঞ্জে। যাতে রান্না করা যাবে ১০১ মণ খাবার। ২৭ আগস্ট ও ২৮ আগস্ট জৌনপুরী খলিফা শাহ সুফি হযরত মাওলানা মরহুম মাগফুর এখলাছ উদ্দীন কু: (রহ.) এর প্রতিষ্ঠিত ৯৯ তম বাৎসরিক ওরশ শরিফে মানিকগঞ্জের ঘিওরের জাবরা ইমামবাড়ি দরবার শরিফে প্রথমবারের মতো রান্না হবে এ ডেগটিতে।

এর ২ বছর আগে ওর‌শের সময় ডেগ‌টি‌তে রান্না করার চেষ্টা করা হ‌য়ে ছিল কিন্তু চুলা তৈ‌রি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়‌নি। এখন থে‌কে প্রতি বছর শুধুমাত্র ওরশে রান্না করতে তৈরি করা হয়েছে এত বড় ডেগটি। ডেগ তৈরি শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন শত শত মানুষ ডেগটি দেখতে আসছে।

জানা গেছে, আকারের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এ ডেগটি তৈরি করতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা দিয়েছে দরবারের ওরশ কমিটি, ভক্ত ও সাধারণ জনগণ। ২ জন মিস্ত্রী ৩ মাস ধরে তৈরি করেছে এ বিশাল আকৃতির ডেগ।

জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরিফের ওরশ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জানায়, এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ। ডেগটির উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। এর মুখের চারপাশের প্রশস্ততা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। আর মাঝামাঝি অংশে প্রস্থ ৭ ফিট।

ডেগ এর ওপর দিকে মাঝ বরাবর চার পাশে ৪ট রিঙ (হাতল) রয়েছে। যার প্রতিটির ওজন প্রায় ৪ কেজি করে। ডেগটি স্থানান্তরের সময় এই রিঙের ভেতর বাঁশ জাতীয় কোনো কিছু দিয়ে ধরে সরাতে হয়। ডেগটি স্থানান্তরের জন্য পূর্ণবয়ষ্ক ৪০ থেকে ৪৫ জন লোক লাগে। প্রতিদিন ডেগটি দেখতে শত শত মানুষ আসে।

জানা গে‌ছে, ডেগটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। ডেগ তৈরি করতে মিস্ত্রী আনা হয়েছে ঢাকা থেকে। ২ জন মিস্ত্রীর এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ মাসের মতো। ডেগটি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়েছে ৫ মিলিমিটার পুরুত্ব বিশিষ্ট স্টিলের প্রতিটি ১১৩ কেজি ওজনের ৫টি শিট, ঝালা দিতে লেগেছে ২০ কেজি রড, ডেগটির কানায় ব্যবহৃত হয়েছে ১৮ কেজি ওজনের স্টিল, ডেগটির ৪ কোণে ১৬ কেজির কড়া লাগানো রয়েছে। ডে‌গের জন্য চুলা তৈরি করতে লে‌গে‌ছে প্রায় ১২ হাজার ইট। চুল‌া তৈ‌রি‌তে সময় লে‌গে‌ছে ৪ মাস।

ওরশ কমিটির সভাপতি ওরশ কমিটির সভাপতি মোঃ রাজা মিয়া জানায়, ডেগটি তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র ওরশের সময় তবারক রান্না করতে। ডেগটিতে ওরশের সময় খিচুড়ি রান্না করা হবে।

জাবরা ইমাম বাড়ি দরবার শরিফের পীর সাহেব হযরত মাওলানা খাজা আবুল কালাম আজাদ চিশতি জানান, আধ্যাত্মিকভাবে ধ্যান করার সময় তিনি এ রকম একটি বড় ডেগ তৈরির নির্দেশনা পান।

পরে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত আউলিয়া হযরত খাজা মইনুদ্দিন হাসান চিশতির মাজার শরিফের খাদেম হজরত খাজা আহম্মেদ আলী চিশতির নিদের্শক্রমে এই ডেগ তৈরি করা হয়। এ ডে‌গে একবার রান্না করা খাবার ৫ হাজার লোক খে‌তে পার‌বে। এটি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ডেগ। এত বড় ডেগ আর বাংলাদেশে নেই।

Spread the love
  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    49
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।