সিলেটে কিশোরী মেয়েকে ধ’র্ষণ করল মায়ের পরকীয়া প্রেমিক

0

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে তার কিশোরী মেয়েকে ধ-র্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আলম মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ওই মেয়েটি থানায় অভিযোগ দিলে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার জানাইয়া এলাকার লম্বা কলোনী থেকে আলমকে আটক করা হয়।

আটক আলম মিয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মুকসেদপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার জানাইয়া এলাকার লম্বা কলোনীতে বসবাস করছিলেন।

অভিযোগে কিশোরী মেয়েটি উল্লেখ করেছেন- আলম মিয়া সাহায্য সহযোগিতা করার জন্যে প্রায়ই আমার স্বামী পরিত্যক্তা মায়ের ঘরে আসা-যাওয়া করত। আমার মা তাকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিতেন। ঘটনার ১০ দিন পূর্বে আমি চট্টগ্রাম থেকে আমার মায়ের বাসায় আসি। কয়েকদিন পর আমার ছোট ভাই-বোনকে নিয়ে মা নানা বাড়ি সুনামগঞ্জে যান।

গত ৫ আগস্ট সোমবার রাত ১১টার দিকে দোকান থেকে চা নিয়ে এসে আলম আমাকে খেতে দেয়। চা পান করে আমি অচেতন হয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ২টার দিকে সে আমার অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও আমাকে ধ-র্ষণ করে। পরে আমাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারীর মা বলেন, আলমের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়নি। তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় সে প্রায়ই আমার ঘরে আসতো। আর এই সুযোগে সে আমার মেয়েকে ধ-র্ষণ করেছে।

আলমকে আটকের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আমি একা নই, রাব্বিও বাচ্চাটাকে অনেকবার বলাৎ’কার করেছে- কিশোরের বয়ান

পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামে এক শিশুকে (৬) মুখ বেঁধে পাটক্ষেতে নিয়ে বলাৎ-কারের ঘটনায় ২ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শ্রীকোল গ্রামের মো. ইন্তাজ আলীর ছেলে ইরফান আলী (১৮) এবং একই গ্রামের আব্দুল মালেক প্রামাণিকের ছেলে রাব্বি (১৪)।

গ্রেপ্তার ইরফান বখাটে এবং রাব্বি স্থানীয় শ্রীকোল আজিজা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বুধবার মধ্যরাতে আতাইকুলা থানা পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞা-সাবাদে শিশু বলাৎ-কারের কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃতরা। বলাৎ-কারের শিকা-র শিশুটি একই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ছেলে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্র। শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বলাৎ-কারের শিকা-র শিশুটির বরাত দিয়ে পাবনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিবেশী দূর-সম্পর্কের চাচা ইরফান আলী অ-স্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাসখানেক আগে একাধিকবার শিশুটিকে বলাৎ-কার করে। ঘটনাটি কাউকে বললে শিশু ও তার বাবা-মাকে হ-ত্যার ভয় দেখায় ইরফান। তখন শিশুটি ভয় পেয়ে ঘটনাটি কাউকে বলেনি।

সর্বশেষ ২৩ জুলাই শিশুটিকে আবারও ইরফান বলাৎ-কার করলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই দিনই শিশুর অভিভাবকরা তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এখনো শিশুটি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় একজন চিকিৎসক শিশুটির অভিভাবকদের জানান, শিশুটিকে বলাৎ-কার করা হয়েছে এবং ভয়ে বিষয়টি কাউকে বলেনি। এরপর শিশুটি ঘটনা খুলে বললে বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবার।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ছেলের চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। তার শরীরে কয়েক ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। মামলা করতে গেলে আমাদের হুম-কি দেয়া হয়।’

আতাইকুলা থানা পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, পাবনা থানার মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর বুধবার রাতেই শ্রীকোল গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ইরফান জানায়, রাব্বিও ওই শিশুটিকে একাধিকবার বলাৎ-কার করেছে। এরপর রাব্বিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরও বলেন, দুজনই পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞা-সাবাদে বলাৎ-কারের কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের জবানব-ন্দি নেয়া হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।