তাবিজে স্বামীকে সুস্থ করতে গিয়ে ফকির দ্বারা ধ’র্ষিত অসহায় নারী ও তার বোন

0

সময় এখন ডেস্ক:

নিজেকে ফকির বলে পরিচয় দেন। প্রায় সময়ই ঢাকার উত্তরায় একটি বাসায় তার যাতায়াত। ওই বাসায় গিয়ে একদিন হঠাৎ এক নারী সদস্যকে বললেন, আপনার স্বামী অসুস্থ, বেশি দিন বাঁচবে না। তাকে সুস্থ করতে তাবিজ-কবচ করতে হবে। স্বামীর জীবন বাঁচাতে হায়দার নামে ওই ফকিরের দ্বারস্থ হন স্ত্রী।

কিন্তু তাবিজ-কবচের নামে ওই নারীকে একাধিকবার ধ-র্ষণ করেন হায়দার। শুধু তাই নয় ভুক্তভো-গীর বোনকেও ধ-র্ষণ করেন তিনি। সেইসঙ্গে নগদ টাকাসহ স্বর্ণ-গহনাও হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানায় ফকির হায়দারের বি-রুদ্ধে ধ-র্ষণসহ আর্থিক প্র-তারণার মামলা করেন ভুক্তভো-গী নারী।

মামলায় ফকির হায়দারকে সোমবারই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার তাকে ২ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞা-সাবাদ করার অনুমতি দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। আদালতের নির্দেশে জিজ্ঞা-সাবাদের জন্য থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে ফকির হায়দার।

এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, রাজধানীর উত্তরায় বাসায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন ওই ভুক্তভো-গী নারী। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই দম্পতির উত্তরায় বাসায় যাতায়াত ছিল হায়দার নামে ওই ফকিরের।

হঠাৎ একদিন ওই ফকির ওই নারীর বাসায় গিয়ে বলেন, আপনার স্বামী তো ভীষণ অসুস্থ। তিনি তো বেশি দিন বাঁচবেন না। তাকে বাঁচাতে হলে তাবিজ-কবচ করতে হবে। ওই নারীর কাছে তার স্বামীর সম্পর্কে আরও অনেক নেতিবাচক তথ্য তুলে ধরতে থাকেন তিনি।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীকে জিনের ভয় দেখান হায়দার। তার (হায়দার) কথা মতো ওই নারী তার স্বামীকে নানা কিছু খাওয়ান। এক পর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীকে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে একদিন হায়দার ওই নারীকে কিছু একটা খাইয়ে অচেতন করে ধ-র্ষণ করেন।

সর্বশেষ হায়দার গত ৪ আগস্ট উত্তরার বাসায় ওই নারীকে আবারও ধ-র্ষণ করেন। নানা ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ওই নারীর কাছ থেকে হায়দার ৪ লাখ টাকা নেন। টাকার পাশাপাশি হায়দার ওই নারীর কাছ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণও নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ওসি তপন বলেন, হায়দার ফকির নয়। কিন্তু তাবিজের মাধ্যমে ওই নারীর স্বামীকে সুস্থ করার কথা বলে একাধিকবার ধ-র্ষণ করা ও নগদ টাকা ও অলঙ্কার হাতিয়ে নেয়াই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

জিজ্ঞা-সাবাদে হায়দার স্বীকার করেছেন, প্রতারণার মাধ্যমে ওই নারীকে তিনি বারবার ধ-র্ষণ করেছেন। ভুক্তভোগী ওই নারীর এক বোনকেও ধ-র্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন আসামি হায়দার। একই কায়দায় তিনি আরও কোথাও ফাঁদ পেতে একই ধরনের অ-পকর্ম করেছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি তপন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।