ইউনিফর্ম তুলে লজ্জাস্থানে মাওলানার বেত্রাঘাত, স্কুলছাদ থেকে ছাত্রীর ঝাঁপ

0

রাঙামাটি প্রতিনিধি:

ক্লাসে পড়া দিতে না পারায় নিজ হাতে ছাত্রীর ইউনিফর্ম তুলে শরীরের স্পর্শকা-তর স্থানে বেত্রাঘাত করেছেন এক শিক্ষক। পরে লজ্জায় অপ-মানে স্কুলের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহ-ত্যার চেষ্টা করেছে ওই ছাত্রী। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি মডেল কেজি স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ক্লাসে পড়া দিতে ভুল করেছিল ওই ছাত্রী। সেদিন আরও অনেকেই পড়া দিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। শিক্ষক মাওলানা আতাউর রহমান মোটা বেত এনে সবাইকে পিটিয়েছিলেন। আর মেয়েটির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আরও নি-র্দয়। আতাউর ওই ছাত্রীর ইউনিফর্ম নিজ হাতে তুলে স্পর্শকা-তর স্থানে বেত্রাঘাত করেন।

ছাত্রীরা জানায়, মাওলানা আতাউরের আচরণ আগে থেকেই ছিল অশা-লীন। প্রায়ই তিনি ওই ছাত্রীকে বলতেন, ‘এমন জায়গায় মা-রবো কাউকে দেখাতে পারবি না।’

৩০ জুলাইয়ের ঘটনার পর লজ্জায় অপ-মানে বাসায় ফিরে মাকে ঘটনাটা জানিয়েছিল। মা গিয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানকে ঘটনাটি জানান। কিন্তু ফল হয় উল্টো। সহকারী প্রধান শিক্ষক মেয়েটির ঘাড়েই দোষ চাপান। তার সঙ্গে যোগ দেন স্কুলের শিক্ষিকা ফারজিয়া বেগম ও স্কুলের আয়া। তার দুজনই মা-মেয়ের সামনেই অ-শ্লীল সব কথাবার্তা বলতে লাগলেন।

এ দৃশ্য সহ্য করতে পারেনি ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া ওই ছাত্রী। রাগে ক্ষো-ভে স্কুলের ছাদে গিয়ে সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে সে। এখন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছাত্রীটি।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ইংরেজির শিক্ষক মাওলানা আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি তিনি।

ওই ছাত্রীর পরিবার জানাচ্ছে, মামলা নিতে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করেছিল। পরে ঢাকা থেকে কয়েকজন মানবাধিকার কর্মীর প্রচেষ্টায় পুলিশ মামলা নিলেও যৌ-ন হয়রা-নির ঘটনা ধামাচাপা দিতে মামুলি ধারায় মামলাটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি মডেল কেজি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো নিবন্ধন নেই। এর ওপর আবার যুক্ত করা হয়েছে কলেজের নাম।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মাওলানা এবিএম তোফায়েল উদ্দিন রাঙামাটি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি। ওই স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রায় সবাই জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।

ছাত্রী হেন-স্থার ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে গত সোমবার লোক ভাড়া করে এনে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন অভিযুক্ত শিক্ষক আতাউর রহমান।

জানা গেছে, জামায়াতঘনিষ্ঠ কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে চাপ দিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকেও ওই মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।