ডুবুরী দিয়ে মোবাইল উদ্ধার, ইউএনও’র নামে পত্রিকায় মিথ্যাচার, সাংবাদিকের ক্ষমা প্রার্থনা (অডিও)

0

সময় এখন ডেস্ক:

‘সাংবাদিকতা আসলে শাবলের মতো। কেউ এটা দিয়ে মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন আবিষ্কার করতে পারে, আবার মানুষ খু-নও করতে পারে…’, কথাগুলো বলছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক অমি রহমান পিয়াল। একটি ঘটনাকে সামান্য এদিক ওদিক করে কারো সারাজীবনের সুনাম আর তার সন্মানকেও এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়া সম্ভব।

গতকাল সারাদেশে রীতিমত ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কারনে। বিশেষতঃ দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক এর অনলাইনে প্রকাশিত হয় ‘ইউএনও’র স্ত্রীর মোবাইল পানিতে, উদ্ধারে ৬ সদস্যের ডুবুরি দল’ শিরোনামের সেই সংবাদ। যাতে বেশ রসিয়ে বর্ণনা করা হয়-

বন্যার পানি দেখতে গিয়ে ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার সময় হাত ফসকে পানিতে পড়ে যায় মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের স্ত্রীর মোবাইল ফোনটি। অত্যন্ত প্রিয় ফোনটি হারিয়ে মন খারাপ সহধর্মিণীর। এ দৃশ্য সইতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসকেই কল করে বসলেন এই কর্মকর্তা। খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার সুমন মিয়ার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ছয় সদস্যের একটি দল। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর উদ্ধার হয় মোবাইল ফোনটি।…

অথচ প্রকৃত ঘটনা এর ধারে কাছেও নেই। আসল ঘটনাটি তুলে ধরেছেন স্বয়ং ইউএনও আমিনুল ইসলাম নিজেই। ঘটনাটি বিষয়ে তিনি তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রকৃত ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। একইসাথে পত্রিকায় লিখিত প্রতিবাদের কপিও পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন-

২৭ জুলাই ২০১৯ খ্রি: তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে প্রকাশিত ‘ইউএনও’ এর স্ত্রীর মোবাইল পানি থেকে উদ্ধারের জন্য ৬ (ছয়) সদস্যের ডুবুরীদল শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা এই যে, গত ২৫ জুলাই ২০১৯ খ্রি: তারিখ সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় বন্যায় ক্ষ-তিগ্রস্থ রাস্তায় পরিদর্শনের জন্য আমি মাদারগঞ্জ উপজেলাধীন ৭নং সিধুলী ইউনিয়নের অন্তর্গত চরলোটাবর রাস্তায় একটি ব্রীজে অবস্থান করি। অ-সতর্কতার কারনে মোবাইল ফোনটি আমার হাত ফসকে পানিতে পড়ে যাওয়ায় আমি হতভম্ব হয়ে যাই এবং অফিসিয়াল ফোন হিসেবে সকল গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার থাকায় ফোনটি উদ্ধার করার চেষ্টার অংশ হিসেবে আমার সহকর্মীদের পরামর্শ মোতাবেক মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করি। অফিসিয়াল ফোনের গুরুত্ব অনুধাবন করে তারা তাদের ডুবুরী প্রেরণ করতে রাজী হয়।

পরেরদিন অর্থাৎ ২৬ জুলাই ২০১৯ খ্রি: তারিখ সকাল ৭:৩০ ঘটিকায় ডুবুরীদল এবং আমার সহকর্মীসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ডুবুরীদল তাদের চেষ্টায় সকাল ৮:০৬ মিনিটে পানি থেকে ফোনটি উদ্ধার করেন। ডুবুরীর সাফল্যে আপ্লুত হয়ে সেখানে উপস্থিত সিধুলীর ইউপি চেয়ারম্যান খুশি হয়ে ডুবুরীকে ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা পুরস্কৃত করে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ফায়ার সার্ভিস দল উপজেলা পরিষদে এসে নিম্ন স্বাক্ষরকারীকে উদ্ধারকৃত ফোনটি হস্তান্তর করেন। কিন্তু আমার সাথে কথা না বলেই দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত ফোনটি আমার স্ত্রীর ফোন হিসেবে প্রকাশ করায় আমার এবং পরিবারের সন্মানহা-নী হয়েছে। আমি উক্ত সাংবাদটির তীব্র নি-ন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এদিকে এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রকাশিত সংবাদের ভুল বার্তার কারনে ইউএনও আমিনুল ইসলামকে হতে হয় তীব্র সমালোচনর শিকার। পাশাপাশি তার স্ত্রীর প্রতি ক-টাক্ষ এবং কুৎসিত মন্তব্য করেন সাধারণ মানুষ।

এরই মধ্যে সময় এখন ডটকমের হাতে আসে একটি অডিও ক্লিপ। যেখানে ইত্তেফাক পত্রিকার সেই সংবাদদাতা এবং ইউএনও’র মধ্যকার কথোপকথন শুনতে পাওয়া যায়। সেখানে প্রকাশিত সংবাদটি যে আসলেই ভিত্তিহীন, তার নমুনা পাওয়া যায়। পাঠকদের জন্য অডিও ক্লিপটি সংযোজন করা হলো। সংবাদে ব্যবহৃত মূল ছবিতে সাংবাদিক (ডানে) এবং ইউএনও (বামে)।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।