নুসরাত হ-ত্যা: সিদ্ধান্ত হলেও মাদ্রাসায় সিসি ক্যামরা লাগাতে দেয়নি সিরাজ

0

ফেনী প্রতিনিধি:

ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পু-ড়িয়ে হ-ত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১২তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জে-রা শেষ হয়েছে।

রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নি-র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে রাফীর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন ও সোনাগাজী মাদ্রাসার দপ্তরি মো. ইউসুফ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার চার্জ শিট ভুক্ত ১৬ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

সোমবার আরও ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ হবে। তারা হচ্ছেন- সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন ও ড্রাইভার নুরুল করিম।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, এ পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্য ও জে-রা শেষ হয়েছে। এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

পরে নুসরাতের বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠি নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও শিক্ষক আবুল খায়ের, শেখ আবদুল হালিম মামুন ও মো. ইউসুফ সাক্ষ্য গ্রহণ ও জে-রা শেষ হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহম্মদ জানান, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য পৌর কাউন্সিলর শেখ আবদুল হালিম মামুন আদালতকে জানান- অধ্যক্ষ সিরাজের বিভিন্ন অ-পকর্ম ও দুর্নীতির প্র-তিবাদ করায় সুকৌশলে তাকে পরিচালনা কমিটি থেকে বাদ দেয়।

অধ্যক্ষ সিরাজের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌ-ন হয়রা-নি প্রতিরোধ করতে ২০১৭ সালে পরিচালনা কমিটির সভায় মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ সিরাজ তা বাস্তবায়ন করতে দেননি। সিসিটিভি স্থাপন করা হলে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীর এমন প-রিণতি হতো না- জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

মাদ্রাসার দপ্তরি মো. ইউসুফ আদালতকে জানান, অধ্যক্ষ সিরাজের বিভিন্ন অ-পকর্মের কথা শুনেছেন। কিন্তু চাকরি হারানোর হুম-কিতে কোনো তথ্য প্রকাশ করতেন না।

অভিযোগ গঠনের ৬ দিনের মাথায় ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীপক্ষের ৩ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

২০ জুন সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দেন আদালত। মামলার চার্জ শিট জমা দেয়ার আগে ৭ জন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারো-ক্তিমূলক জবানব-ন্দি দিয়েছেন।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরু-দ্ধে করা শ্লী-লতহানির মামলা তুলে না নেয়ায় তাকে পু-ড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে মৃ-ত্যু শয্যায় নুসরাত বলে গেছেন। ১০ এপ্রিল ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃ-ত্যু হয়।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রের ১৬ আসামি হলেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অন্য ৫ জনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে পিবিআই। আদালত তা অনুমোদন করেন।

এছাড়া যৌ-ন হয়রা-নির মামলার পর নুসরাতের জবানব-ন্দি গ্রহণের সময় ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সাইবার আইনে মামলা হয়।

ওই মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারা-গারে রয়েছেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।