শিশু ধ-র্ষণের ঘটনাগুলো বিবেককে নাড়া দেয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

সময় এখন ডেস্ক:

শিশু ধ-র্ষণের মতো অ-মানবিক ঘটনাগুলো আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএসআরএফ’র সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সভায় অংশ নেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হ-ত্যাকাণ্ড ও শিশু ধ-র্ষণের মতো অ-মানবিক ঘটনাগুলো আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। দেশের সামাজিক শাসন ক্ষয়ে গেছে। সামাজিক মূল্যবোধ কমে গেছে। এগুলো রোধ করতে পারলে, আমরা কিছুটা ফল পাবো।

উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ছোট বেলায় দেখেছি, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে গ্রামে বিচার হতো। এখন আর সেটা হয় না। সামাজিক বিচারব্যবস্থা উঠে গেছে। তবে আমরা অপরাধীকে ধরে এনে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছি; এটাই আমাদের প্রধান কাজ।

এসব ঘটনায় সাংবাদিকদের সামাজিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ক্ষেত্রে আপনাদের সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। বর্তমানে সংবাদমাধ্যম অনেক শক্তিশালী, সংবাদিকরা যদি তাদের লেখনিতে এগুলো তুলে আনেন, তবে আমরা সামাজিক অব-ক্ষয় থেকে মুক্তি পাবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজের শুরু থেকেই অ-নাচার ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পৃথিবীতেই এটা হচ্ছে। এর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অপরাধীদের বিচার বিলম্বিত হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মামলাজটের কারণে বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।

দুর্বল চার্জশিটের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চার্জশিট যাতে নির্ভুল হয়, সে জন্য পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পিবিআই, সিআইডি গঠন করা হচ্ছে।

ধ-র্ষণের আসামিরা জামিন পাক, চান না আইনমন্ত্রী:

গত কয়েক বছর ধরেই বিশেষ করে শিশু ধ-র্ষণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে গেছে। গত ৬ মাসে কেবল ৪ শতাধিক শিশু ধ-র্ষণের খবর এসেছে গণমাধ্যমে। আর এর বাইরে রয়ে গেছে অগুণতি ঘটনা। ধারণা করা হয়, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা আর আসামিদের সহজে জামিন এক ধরনের বিচারহীনতার কথা ছড়াচ্ছে। এ জন্য ভু-ক্তভোগী পরিবারের দাবি থাকে এসব বিচার যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকরের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ থাকবে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার পর বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে এ ধরনের মামলাগুলো বিলম্বিত হয় না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা নুসরাতের মামলা দেখছেন এবং আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি, এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিবেদন (অভিযোগপত্র) পাওয়ার পর দ্রুততার সাথে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। এখন উচ্চ আদালতের কথা বললে আমাকে বলতেই হয়, সেখানে এ পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন ধরনের।

আমার কাছে অনেক তথ্য আছে যে বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছে বা অত্যন্ত সেনসেশনাল (সংবেদনশীল) মামলা মোকদ্দমায়ও দেখা গেছে যে, উচ্চ আদালতে সেসব আসামিদের জামিন দিয়ে দেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না, অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এটা নিয়ে আলাপ আলোচনা করব। এটার সাথে আমি বলব যে, দেখেন জামিন দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞ বিচারক এবং মাননীয় বিচারপতিদের ডিসক্রেশন। কিন্তু সেই ডিসক্রেশনের মধ্যে কিন্তু একটা কথা আছে। এই ডিসক্রেশনটা ব্যবহার করতে হবে লিগ্যালি। আমি শুধু এইটুকু আবেদন করতে পারি, যে অপরাধগুলো হচ্ছে আমার মনে হয় সময় এসেছে একটু কঠোর হওয়ার, সময় এসেছে এদের জেলখানায় রাখার।’

এ ব্যাপারে বিচার বিভাগকে কোনো সুপারিশ বা আদেশ দেওয়া হয়নি- এই বিষয়টিও নিশ্চিত করেন আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘সামাজিক পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে আমি শুধু অনুরোধ করছি, এদিকে যেন সকলের মনোযোগটা হয়।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমমর্যাদার বিচারকদের নতুন গাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

Spread the love
  • 2.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2.2K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।