পরামর্শ: গেমোফোবিয়া বা বিয়ে নিয়ে ভয়? করণীয়

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

বিয়ের তারিখ পড়েছে এই মাসের শেষেই। খুশির বদলে কেমন যেন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে জয়া (ছদ্মনাম)। এত দ্রুত সিদ্ধান্তটা না নিলেই বোধহয় ভালো হতো, বিয়েতে না জানি কী হয়, বিয়ের পর কোথা থেকে না সমস্যা তৈরি হয়, অমুক বন্ধুটির বিবাহিত জীবনে এত অশান্তি, আমারও তেমন হয় কি না, সেটা নিয়ে চিন্তার কোনো শেষ নেই জয়ার। শুধু ভয় করছে, মনে হচ্ছে বিয়েটা পিছিয়ে দিলে ভালো হতো।

এই সমস্যা অনেকেরই। এটাকে বলে গেমোফোবিয়া, অর্থাৎ বিয়ে নিয়ে ভয়। এই বিয়ে নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু কারণও অবশ্য আছে। তা নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

এই বুঝি স্বাধীন জীবনটা শেষ হলো!

সবাই চায় স্বাধীন থাকতে, হাত পা একেবারে ঝাড়া থাকুক। আর বিয়ের আগমুহূর্ত পর্যন্ত একজন ব্যক্তি বলা যায় স্বাধীন জীবন অতিবাহিত করে। এজন্য সবার মনে দ্বিধা কাজ করে যে বিয়ের পরে এই স্বাধীনতা নাও থাকতে পারে। পাশাপাশি অনেক বন্ধুর বিবাহপরবর্তী অবস্থার কথা ভেবেও এটা মাথায় আসতে পারে।

হাজারো দায়িত্ব মাথায় নিতে পারবো তো!

বিয়ে বলতেই না চাইলেও দায়িত্বের ব্যাপারটি সবার মাথায় চলে আসে। বিশেষ করে ছেলেরা বার বার মনে করতে থাকে, বিয়ে করা মানেই হাজার দায়িত্ব মাথায় চাপিয়ে নেওয়া। অন্যদিকে মেয়েরা ভাবতে থাকে যে পুরো শ্বশুরবাড়ি সামলানো এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের সাথে মানিয়ে চলার দায়িত্ব। এগুলো মিলিয়ে চলা খুব মুশকিল ভেবে বিয়ে থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়।

বিয়ের সিদ্ধান্তটা বোধহয় তাড়াতাড়ি নেওয়া হলো?

বিয়ের আগের কিছুদিন আগে থেকে মনে হতে থাকবে যে এখনই কি বিয়ে করা ঠিক হচ্ছে? এমন হাজারো প্রশ্ন মনের মধ্যে উঁকি মারতে থাকবে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি তো? আরেকটু কি সময় নিতে পারতাম না? সুখী হতে পারবো তো? কোন না কোন ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছি কে জানে- এই প্রশ্নের ভিড়ে আপনি চাপা পড়ে যাবেন। মনে হবে ধুর, একাই তো ভালো ছিলাম। বিয়ের পরে আমার জীবনটা এমন থাকবে তো? সঙ্গী ঠিকমতো থাকবে তো? ভাবতে ভাবতেই পিছায় আপনার বিয়ে।

এর ফলে মনে হবে আপনি ভুল করছেন, পালিয়ে যাওয়া দরকার, বিয়েটা কি ভেঙেই দেবো নাকি, পরে না হয় বিয়ে নিয়ে ভাবলাম- এমন কতো কথাই তো মনে আসে।

বিভিন্ন জনের কাছে প্রশ্ন

যখন আপনি বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনকে বার বার নিজের বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করবেন, তখন বুঝবেন বিয়ে নিয়ে আপনি যথেষ্ট চিন্তিত। আপনি হয়ত আশ্বাস চাইছেন যে আসলেই বিয়েটা ঠিক সিদ্ধান্ত কিনা। এমন অবস্থায় আপনি আরেকজনের কাছে আশ্বাস চাইবেন যে, বিয়ে করাটা আসলেই ঠিক হচ্ছে কিনা তা নিয়ে।

বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো উৎসাহ না থাকা

বিয়ে নিয়ে ভয়ে থাকলে বিয়ের অনুষ্ঠানাদি প্রতি এক ধরনের অনীহা কাজ করবে। বিয়ের কোনো ধরনের আয়োজনে তেমন কোনো আগ্রহবোধ হবে না। সব সময় অনুষ্ঠানের যে কোনো আয়োজন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকবেন। মনে হতে থাকবে এগুলোর আবার কি দরকার!

কেমন যেন হাহাকারবোধ হওয়া

বিয়ের সময় আপনার মনে এক ধরনের হাহাকার কাজ করতে পারে। আপনার মনে হতে থাকবে, আপনি জীবনে অনেক বড় একটি ভুল করে ফেলেছেন। আপনার বিয়ে করার সিদ্ধান্তটা মোটেও ঠিক হয়নি। আপনি অনেক মানুষের মাঝেও তখন নিজেকে নিঃস্ব অনুভব করবেন।

এখন বিষয় হলো, নিজের এমন মানসিক অবস্থা বুঝতে পারলেও পাত্রপাত্রীর কি করণীয় থাকতে পারে। নিজেদের পছন্দে বিয়ে হলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার কারণ সেখানে সিদ্ধান্ত নিজের। কিন্তু পারিবারিক বিয়েতে ব্যাপারটি আলাদা হতে পারে। নিজের অজান্তেই বিয়ের ভয় সব আনন্দকে মাটি করে দিতে পারে। এই অবস্থায় শুধু খারাপ চিন্তা মাথায় আসতে থাকে। এতে দুই পরিবারকেই পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই প্রয়োজন সচেতনতা। এই চিন্তা মাথা থেকে বের করতে কিছু বিষয় মাথায় রাখবেন-

নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখা

বিয়ের সিদ্ধান্তের পর যদি মনে হয় যে অযথা দুশ্চিন্তা হচ্ছে, তাহলে বিচলিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে। যদি সিদ্ধান্ত ঠিক থাকার পরেও বিয়ের আগে আপনি বিচলিত হন তাহলে নিজেকে অন্য কাজে ডুবিয়ে ফেলুন। বিয়ে নিয়ে ভাববেন কম। দেখবেন খারাপ লাগবে না।

হাসিঠাট্টায় সময় কাটানো

আপনার খুব বেশি ভয় হলে কাছের বন্ধুবান্ধবের সাহায্য নেওয়া নিতে পারেন। তাদের বিয়ের আগে পরের গল্প শুনে সেগুলোকে নিয়ে মজা ঠাট্টায় থাকার চেষ্টা করুন। তাদের সঙ্গে বিয়ে ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে হাসি আনন্দ ভাগাভাগি করে নিন।

আর আপনি সমস্যাটা নিয়ে কাছের কারো কাছ থেকে সমাধান চেয়ে নিতে পারেন। তাদের খুলে বলুন আপনার সমস্যাগুলো। দেখুন তারা আপনাকে কী বলে। কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে, খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকলে, বিয়ের ভালো দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করলে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবেন। জীবনের স্বাভাবিক নিয়মেই এমন অযাচিত অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর অবশ্যই বুকে সাহস রাখুন, প্রস্তুত হন নিজের নতুন জীবনকে উপভোগ্য করার জন্য।

Spread the love
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।