আপনার মেয়েটি এখন আর ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

আপনার অতি আদরের মেয়েটি আপনার পুরো বাড়িটি যেন আলোয় ভরিয়ে রাখে। তার ছোট হাতের আলতো ছোঁয়া, তার দুষ্টুমি, ছোট থেকেই লক্ষীমন্ত সংসারী ভাব আপনাকে কখনো না কখনো অবাক করে দেয়। এই অতি আদরের সন্তানের সাথে কোনো খারাপ কিছু ঘটলে আপনার জন্য মেনে নেওয়া সম্ভব না। সমাজ নিজেও এটা মেনে নিতে পারে না।

কিন্তু এই সমাজে আমাদের অলক্ষ্যেই অসংখ্য মেয়েশিশু হয়রা-নি ও হ-ত্যার শিকা-র হচ্ছে। গণমাধ্যমে সেই খবর প্রতিনিয়ত আসছে। আর তাই সচেতন হওয়ার সময় চলে এসেছে অনেক আগেই। আপনিও সচেতন হন। কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা শুধু ঘরে নয়, ঘরের বাইরেও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সে যখন ছোট কিংবা কিশোরী বয়স অতিক্রম করছে। তাকে নিয়ে যখন বাইরে বের হবেন, আলাদা নজর দিতে হবে তার প্রতি।

আপনার ছোট মেয়েটিকে আপনি অবশ্যই চোখে চোখে রাখেন। কিন্তু চোখের আড়ালে কখন কি হয়, সেটা তো আপনি টের পাচ্ছেন না। যদি দেখেন কোনো পুরুষ খুব গায়ে পড়ে মেয়েটিকে আদর করতে আসে কখনোই তাতে সায় দিতে যাবেন না। কারণ এই গায়ে পড়া আদরের আড়ালে কোন বদ-উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

আপনার সন্তানটিকে নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে গেলে তাকে অন্যদের সঙ্গে নিশ্চিন্তে ছেড়ে দেবেন না কখনোই। কারণ সেখানে চেনা-অচেনা বিভিন্ন ধরনের লোকের উপস্থিতি থাকবে। সবার মানসিকতা একই ধরনের নাও হতে পারে। তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করবেন। দুর্ঘ-টনা ঘটার কোনো নিশ্চয়তা তো নেই।

আপনার মেয়েটিকে নিয়ে মার্কেট বা কোনো ভিড়ভাট্টার মধ্যে গেলে তাকে আগলে রাখুন। কারণ এসব জায়গায় আপনার কন্যা সন্তানটির হয়রা-নি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে খুব বেশি। সে কখন চোখের আড়াল হলো, সেই আড়ালে গিয়ে কী হলো সেটা বোঝার আগেই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘ-টনা।

আপনার মেয়ে সন্তানটির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সবসময় বজায় রাখুন। আপনাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকলে সে এই ধরনের কোনো সমস্যায় পড়লে সেটা আপনাকে বলতে চাইবে না। তাকে আগে থেকেই বোঝান কিছুটা, কেউ কোনো সমস্যা করলে আপনাকে যেন আগেভাগেই সে জানায়। তার হয়রা-নির কথা যাতে সে আপনাকে শেয়ার করতে পারে, মন খুলে বলতে পারে সেই ব্যবস্থা করবেন।

গণপরিবহনে উঠলে সন্তানটিকে কখনো চোখের আড়ালে রাখবেন না। তাকে অন্য সিটে বসাবেন না। নিজের পাশে নিয়ে বসবেন। দাঁড়িয়ে চলাচল করবেন না। নিজে দাঁড়িয়েও তাকে বসতে দেবেন না। একেবারে হাত ধরে রাখুন। কারণ গণপরিবহনগুলোতে এখন নারী হয়রা-নির ঘটনাগুলো বেশি ঘটে।

স্কুল একটু দূরে হলে মেয়ে সন্তানকে অনেক সময়েই স্কুল ভ্যানে বা গাড়িতে স্কুলে পাঠাতে হয়। সেখানেও রয়েছে বিশাল ভ-য়ের এক থাবা। কারণ ভ্যান বা গাড়ির ড্রাইভারের দ্বারা আপনার মেয়েটি কোনোভাবে হয়রা-নির শিকা-র হতে পারে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলবেন। কোনো সমস্যা হলো কি না খেয়াল রাখুন।

শুধু স্কুল বাস বা পাবলিক বাসই নয়, নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে মেয়েকে পাঠিয়ে আপনি অবশ্যই নিশ্চিন্তে বসে থাকবেন না। তার কাছে থেকে সারাদিনের নানা ঘটনা মন খুলে শোনার চেষ্টা করুন। ড্রাইভারের আচরণ নিয়ে তাকে সুন্দর প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করুন সব ঠিকঠাক আছে কিনা।

সন্তানকে যদি বাড়ির বাইরে কোচিংয়ে পাঠাতে হয়, তবে সেখানেও সে নিরাপদ কি না জানার চেষ্টা করুন। কারণ কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়তে গিয়ে অসংখ্য হেন-স্তার খবর আমরা প্রতিদিনই দেখতে পাই। সবচেয়ে ভালো হয় নিজেই মেয়েকে আনা-নেওয়া করলে, মাঝেমধ্যে সে পড়ার সময়ে আপনি বসে থাকলে বেশি ভালো হয়। এতে তাকে চোখে চোখে রাখা সহজ হয়।

আর একা তাকে কোথাও পাঠাবেন না। খুব কাছের কেউও যদি তাকে নিয়ে কোথাও যেতে চায়, সেটা দেবেন না। খুব দরকার হলে আপনিও সঙ্গে যান। একা কারো সঙ্গে পাঠাবেন না। আর দোকানপাটে পাঠানোর অভ্যাস করাবেন না মেয়েকে। আশেপাশের বাসায় খেলার জন্যেও ভেবেচিন্তে পাঠাবেন। যে বাসায় যাচ্ছে, সেই বাসায় কে না কে যাওয়া আসা করছে সেটাও খোঁজ নিন। অর্থাৎ আপনার মেয়েটি যেন নিরাপদে থাকে।

লেখক: শাহরিনা হক

Spread the love
  • 182
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    182
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।