কিডনি রোগের ১২টি লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিন, অবহেলা করবেন না

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

মানব শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হচ্ছে কিডনি। সারাবিশ্বে মানুষ যেসব প্রা-ণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তার মধ্যে কিডনি রোগ অন্যতম। কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষ-তি করে বলে একে নীরব ঘা-তকও বলা হয়। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশ পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি এবং এর সঠিক চিকিৎসা কী হবে তাও জানা জরুরি।

১. প্রস্রাবে সমস্যা: তুলনামূলকভাবে প্রস্রাব কম হওয়া কিডনি রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ। শুধু তাই নয়, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগও কিডনি সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ করে। সাধারণত কিডনির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এ ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।

২. প্রস্রাবে রক্ত: সুস্থ কিডনি সাধারণত শরীরের ভিতরে রক্তে থাকা বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের সাথে বের করে দেয়। কিডনি ক্ষ-তিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবের সাথে ব্লাড সেল বের হয়ে যায়। সাধারণত কিডনিতে পাথর, কিডনি ইনফেকশন হলে এই সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এছাড়া প্রস্রাবে অনেক বেশি ফেনা দেখা দিলে বুঝতে হবে যে, প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন বের হয়ে যাচ্ছে। প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিনের উপস্থিতির জন্যই এমন হয়।

৩. অনেক বেশি ক্লান্ত অনুভব হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে দূষিত এবং বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন হয়। যার কারণে আপনি ক্লান্ত, দুর্বল অনুভব করেন। এমনকি কাজে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। এই সময় রক্ত স্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে। দুর্বলতা অনুভব করার আরেও একটি কারণ এটি।

৪. পায়ের গোড়ালি ও পায়ের পাতা ফুলে গেলে: হঠাৎ করে পায়ের পাতা এবং গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে দেহে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে যায়, যার কারণে পায়ের পাতা, গোড়ালি ফুলে যেতে পারে।

৫. খাবারে অরুচি: বিভিন্ন কারণে খাবারে অরুচি হতে পারে। কিন্তু এটি ঘন ঘন খাবারে অরুচি হওয়া, বমি বমি ভাব লাগাকে অবহেলা করবেন না। শরীরে বিষাক্ত পদার্থ উৎপাদন হওয়ার কারণে এই ধরণের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

৬. চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া: যখন কিডনি থেকে বেশি পরিমাণে প্রোটিন প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়, তখন চোখের চারপাশ ফুলে যায়। তাই এই সমস্যাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

৭. মাংসপেশিতে টান: আপনি হয়তো শুনে থাকবেন ইলেক্ট্রোলাইট উপাদানের ভারসাম্যহীনতার কারণে কিডনি সমস্যা হয়ে থাকে। আর এই উপাদানটি কমে গেলে মাংসপেশী টান, খিঁচুনির সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

৮. ত্বকে র‌্যাশ এবং চুলকানি দেখা দেওয়া: রক্তে মিনারেল এবং পুষ্টি উপাদান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে ত্বকে র‌্যাশ এবং চুলকানি দেখা দিয়ে থাকে। মূলত কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে মিনারেল এবং পুষ্টি উপাদানের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়ে থাকে।

৯. বিছানায় প্রস্রাব: ৬ বছর বয়সের পরেও রাত্রে বিছানায় প্রস্রাব করা।

১০. প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া: প্রস্রাব করার সময় জুলন অনুভব করা এবং প্রস্রাবে রক্ত বা পুঁজ-এর উপস্থিতি।

১১. প্রস্রাব সম্পূর্ণ না হওয়া: প্রস্রাব করার সময় কষ্ট হওয়া। প্রস্রাব করার পরেও ফোঁটা ফোঁটা করে প্রস্রাব হওয়া।

১২. প্রস্রাবের বেগ: প্রস্রাবের বেগ কম আসাও কিডনি রোগের লক্ষণ।

কিডনির রোগ নির্ণয়: কিডনির অনেক রোগ-চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। জটিল কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। দুর্ভাগ্যবশত কিডনির রোগের লক্ষণ শুরুতে কম দেখা যায়। এইজন্য যখনই কিডনির রোগের আশঙ্কা হয়, তখনই বিনা বিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করা দরকার।

যে সকল ব্যাক্তির নিয়মিত কিডনির পরীক্ষা করানোর দরকার:

১. যে ব্যক্তির কিডনির রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
২. ডায়াবেটিস রোগগ্রস্ত ব্যক্তি।
৩. উচ্চ-রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তি (High Blood Pressure)।
৪. পরিবারে বংশানুগতিক কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে।
৫. অনেক দিন ধরে যন্ত্রণা নিবারক (Pain Killer Tablets) ঔ-ষধের সেবন।
৬. রেচনতন্ত্রে জন্মগত রোগ থাকলে।
৭. ২-৫ বৎসর অন্তর নিয়মিত পরীক্ষা সাধারণের জন্য দরকার।

সাধারণ এই লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার সাথে সাথে কিডনি পরীক্ষা অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একটি ছোট অবহেলা কেড়ে নিতে পারে আপনার জীবন।

Spread the love
  • 7.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7.5K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।