প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশও অগ্রাহ্য করছে ব্যাংকগুলো!

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

দেশের বিনিয়োগে চলছে স্থবিরতা। কমেছে ঋণের প্রবৃদ্ধি। এ জন্য ঋণের উচ্চ সুদহারকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ী, বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা। তাই অর্থনীতির গতিধারা ঠিক রাখতে সুদের হার এক অঙ্কে নামানোর নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী। কিন্তু কারও নির্দেশনাই আমলে নিচ্ছে না ব্যাংকগুলো।

যদিও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আশার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ২৫১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে সে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬১ কোটি ৩৩ লাখ ডলারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে চলছে ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট। ঋণের চাহিদাও বেড়েছে। এ ছাড়া খেলাপি বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে নগদ টাকার সঙ্কটে রয়েছে ব্যাংকগুলো। সুদের হার কমাতে সরকারি উদ্যোগ ও ব্যাংকারদের নানামুখী তৎপরতায়ও কাজে আসছে না হু হু করে বেড়েই চলছে সুদের হার। এটি বিনিয়োগের জন্য শুভকর নয়। এ প্রবণতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মে মাসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঋণের সুদের হার দুই অঙ্কে রয়েছে ৩১টি ব্যাংকের। এর মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ১০.০৩%, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ১০.১১% এবং ব্যাংক আল ফালাহ ১০.২৭%।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে- সিটি ব্যাংকের ১০.৯৮%, আইএফআইসি ব্যাংকের ১১.৮৭%, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১০.৯৫%, এনসিসি ব্যাংকের ১০.৩৪%, প্রাইম ব্যাংকের ১০.১৩%, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ১০.০৬%, ঢাকা ব্যাংকের ১০.৮৯%, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের ১০.৫১%, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ১০.৩২%, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১১.০৪%, ওয়ান ব্যাংকের ১১.২৮%, এক্সিম ব্যাংকের ১০.৬৬%, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১০.৭১%, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১১.২৭%, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ১১.৫৫%,

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১০.৮৮%, যমুনা ব্যাংকের ১১.১৩%, ব্র্যাক ব্যাংকের ১২.৪৯%, এনআরবি কমাশিয়াল ব্যাংকের ১৩.২৪%, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের ১১.৮৩%, মেঘনা ব্যাংকের ১১.৬%, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ১২.২৭%, পদ্ম ব্যাংকের (সাবেক ফামার্স ব্যাংক) ১১.৮৯%, ইউনিয়ন ব্যাংকের ১২.১৪%, এনআরবি ব্যাংকের ১২.৩৭%, এরআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ১৩.৬২% ও মধুমতি ব্যাংকের ১২.৫৮%।

Spread the love
  • 2.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2.3K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।