রোবটিক্সের বিস্ময়কর উন্নতি: ২০৩০ নাগাদ চাকরি খোয়াবে ২ কোটি মানুষ

0

বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

২০৩০ সাল নাগাদ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ২ কোটি মানুষের চাকরি দখল করবে রোবট। রোবটের কারণে চাকরিহারা মানুষের বিকল্প উপায় সেবা খাতেও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণে চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসবে বলে পূর্বাভাস করেছে বিশ্লেষণ সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকস।

প্রতিটি নতুন শিল্প রোবট ১.৬ হারে ম্যানুফ্যাকচারিং কর্মসংস্থান দখল করবে, তথা একেকটি রোবট দেড় জনেরও বেশি মানুষের কাজ করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে। যেসব খাত কম দক্ষ লোকবল নিয়ে কাজ করে, রোবটের ব্যবহারে সেসব খাতের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষ-তিগ্রস্ত হবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

রোবটের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে লাখ লাখ কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ নতুন কাজের সন্ধানে পরিবহন, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের মতো কর্মের দিকে ঝুঁকবে, তবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ার ফলে এখানেও সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে বলে মনে করেন অক্সফোর্ডের বিশ্লেষকরা।

রোবটের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে একটি দেশের কম দক্ষ জনবলসম্পন্ন খাতগুলো দক্ষ জনবলসম্পন্ন খাতগুলোর চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে দেশে দেশে অর্থনৈতিক বৈ-ষম্য ও রাজনৈতিক মেরুকরণ গভীরতর হবে। এ প্রবণতা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে মনে করেন অক্সফোর্ড বিশ্লেষকরা। ভ-য়ংকরভাবে বৃদ্ধি পাওয়া আয়বৈ-ষম্য রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মহলকে অনুরোধ জানিয়েছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস।

কারখানা শ্রমিক থেকে শুরু করে সাংবাদিক— স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে সবাই আকস্মিক ধ্ব-সের মুখোমুখি হবে মর্মে এরই মধ্যে অজস্র পূর্বাভাস করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে আপাত বিপরীতধর্মী একটি দিকও আলোকপাত করা হয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদন অনুসারে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে উৎপাদন সুবিধা বাড়ায় প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুরো ব্যাপারটি খোলাসা করা হয়নি।

কারখানা ও সেবা শিল্পগুলোয় রোবটের ব্যবহার ক্রমে বাড়লেও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষ-তিগ্রস্ত হবে বলে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষত ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নিয়োজিত লাখ লাখ চীনা শ্রমিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে চাকরি খুইয়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখতে শুরু করবেন বলে মনে করে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস প্রতিবেদন।

মানুষের কল্যাণে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যাতে মানুষের জন্য ম-রণফাঁদ হয়ে না দাঁড়ায়, আবার একই সঙ্গে নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা যায়— এক্ষেত্রে সরকারগুলোর সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন অক্সফোর্ডের বিশ্লেষকরা। প্রযুক্তি মানুষের সাং-ঘর্ষিক অবস্থান সমাজকে যাতে নতুন কোনো দ্বন্দ্বের মুখে নিয়ে না যায়, সেজন্য সরকারগুলোসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ জানানো হয়েছে অক্সফোর্ড প্রতিবেদনে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদন বলছে, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ তথা যেসব কাজে আগ্রহ, সৃষ্টিশীলতা ও সামাজিক বুুদ্ধিবৃত্তির দরকার নেই, এসব কাজ সবার আগে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার করাল গ্রাসের মুখে পড়বে। আর যেসব কাজে এসব মানবীয় বিষয় প্রয়োজন, তা আরো কয়েক দশক টিকে থাকবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে একই প্রতিবেদনে।

স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে এরই মধ্যে ১৭ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে। যাদের ৪ লাখ ইউরোপে, ২ লাখ ৬০ হাজার যুক্তরাষ্ট্রে ও ৫ লাখ ৫০ হাজার চীনে।

স্বয়ংক্রিয় ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবস্থার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষ-তিগ্রস্ত হবেন চীনের শ্রমিকরা। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সক্রিয় হবে প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ রোবট।

একই প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বব্যাপী রোবটের ব্যবহার ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জিডিপিতে যুক্ত হবে অতিরিক্ত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এদিকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে ধ্বং-সের সমপরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Spread the love
  • 115
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    115
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।