শিশুদের বাঁকানো পা বিনামূল্যে ভালো করা যাচ্ছে দেশেই

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

প্রতিবছর দেশে প্রায় ৫ হাজার শিশু বাঁকানো পা (ক্লাবফুট) নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুদের এই বাঁকানো পা ভালো করা সম্ভব। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) দেশের সরকারি-বেসরকারি ৪০টি হাসপাতালে বিনামূল্যে এর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুর জন্মগত বাঁকা পা এটি একটি শারীরিক সমস্যা। এতে শিশুর পায়ের পাতা ভেতরের দিকে বাঁকানো থাকে। যাকে ক্লাবফুট বলা হয়। এই ক্লাবফুট এর সময়মতো চিকিৎসা নিলে পা সোজা করা সম্ভব। নয়তো এই সমস্যা নিয়ে শিশুকে সারাজীবন চলতে হয়। এখন দরকার একটু সচেতনতা। এর চিকিৎসা যে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, তার খবর সারাদেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ২৪ জুন পালন করা হবে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সকালে রাজধানীর বিএসএমএমইউর বটতলা থেকে বের হয় র‌্যালি। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার।

বিসএসএমএমইউর জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মজুমদার জানান, ২০১০ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থপেডিকস বিভাগে শিশুদের মুগুর পায়ের চিকিৎসা প্রদান শুরু করা হয়। এখন পর্যন্ত এখানে সাফল্যের সাথে ৭১৭টি শিশুর পায়ের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যশোর জেলা সদর হাসপাতাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে এই চিকিৎসা শুরু করা হয়। দ্য গ্লেনকো ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ওয়াক ফর লাইফ এই চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রম শুরু করে। গত ১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৪ হাজার ৪০০ শিশুর পায়ের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিএসএমএমইউর অর্থপেডিক্স সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কৃষ্ণ প্রিয় দাশ বলেন, বংলাদেশে এখনো বাঁকানো পা নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা নেই। তবে বিশ্বে প্রতি হাজারে এক থেকে দুটি এমন শিশু পাওয়া যায়। সেই হিসাবে দেশে অন্তত ৫ হাজার শিশু এমন পা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যদিও এমন পা নিয়ে শিশু জন্মের কারণ এখনো জানা যায়নি।

তবে শিশু মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় পেটে পানি কমে গেলে, গর্ভের প্রথম ৩ মাসে মা বিভিন্ন মেডিসিন সেবন করলে বা বাবা-মায়ের কারও বাঁকানো পা থাকলে সন্তানেরও তা হতে পারে। আগে এ সমস্যার তেমন কোনো চিকিৎসা ছিল না। এখন এর আধুনিক চিকিৎসা আছে। শিশুর জন্মগত বাঁকানো পা চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।