পুলিশ সেজে চাঁদাবাজি, যশোরে ভুয়া পিবিআই ইন্সপেক্টর আটক

0

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইন্সপেক্টর পরিচয়দানকারী জিএম বুলবুল কবির রিপন (৪০) নামে এক প্রতারককে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করে পিবিআই।

রিপন যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার হানিফ আলী গাজীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জিএম বুলবুল কবির ওরফে রিপন (৪০) অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে নিয়ে গত ৮ জুন সকালে বেনাপোল বাইপাস এলাকায় ছোট আচড়ার মোড়ে যায়। সেখানে নিজেকে পিবিআই পুলিশ ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে ফিরোজ খান, শাকিবুল, সুজা নামে ৩ বন্ধুকে একত্রে মোটরসাইকেলে পায়। এসময় তাদের নিকট থেকে মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে নেয়।

কিছুক্ষণ পরে ইন্সপেক্টর পরিচয় প্রদানকারী রিপন তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিতে হলে প্রত্যেকের ৫ হাজার করে টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে ফিরোজ খান শরৎ এর মামা আবু মুসা তার ভাগ্নে ফিরোজ খানকে ফোন দিলে ফোনটি পিবিআই ইন্সপেক্টর পরিচয় দেয়া রিপন মোবাইলটি রিসিভ করে। সে নিজে একইভাবে পিবিআই ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ৩ জনকে থানায় ধরে নিয়ে যাবে। এই কথা বলে ০১৭৩৩-১৫০৮৮৮ নাম্বারে বিকাশ করে টাকা পাঠানোর জন্য বলে। ফিরোজের মামা তখন নিরুপায় হয়ে ৪ হাজার টাকা বিকাশ করেন।

বিকাশ করলে ফিরোজের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ফেরৎ দেন। কিন্তু শাকিবুল ইসলাম টাকা দিতে না পারায় তার শাওমি ব্রান্ডের মোবাইল নাম্বার ০১৬৪৭-১৭৯৮৯৮ ও ০১৭৬১-৯১২৩৫২ নিয়ে তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান। পরে শাকিব বাড়িতে ফেরত এসে ঘটনাটি তার বাবা জানায়। তার বাবা পিবিআই ইন্সপেক্টর পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির কাছে থাকা ছেলের মোবাইল ফোনে কল দেন।

ফোন রিসিভ করে রিপন জানায়, ১০ জুন সকাল ১০টার দিকে যশোর মাদকদ্রব্য অফিসের সামনে দেখা করে ৫ হাজার টাকা দিলে ছেলের ফোন ফেরত দেওয়া হবে। তার কথা মত হাজির হন শাকিবের বাবা। এসময় ৫ হাজার টাকা দাবি করেন রিপন। দিতে রাজি না হলে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।

শাকিবের বাবাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে থানায় নেওয়ার ভয় দেখায়। তখন ঘটনাস্থলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের এএসআই আসাদুর রহমান, সিপাহী মোহাম্মদ আলী এবং নির্বাচন অফিসের সামনে স্মার্টকার্ড সংগ্রহের জন্য অপেক্ষমান বুলবুল ইসলাম, ইমতিয়াসহ অন্যান্য লোকজন এগিয়ে আসে।

তাদের সন্দেহ হলে শাকিবের বাবা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর পরিচয়দানকারী রিপনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে বসিয়ে রাখা হয়। এরপর পিবিআই অফিসে খবর দিলে পুলিশ পরিদর্শক আবদুল মান্নানসহ ফোর্স পাঠানো হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রিপন অপরাধ স্বীকার করে। তার কাছ থেকে শাকিবের কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোনসহ আর ৪টি মোবাইল ফোন এবং অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় শাকিবের বাবা সদও উপজেলার ডুমদিয়া গ্রামের বারিক বিশ্বাসের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।