তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন কোমল পানীয়তে? অজান্তেই করছেন নিজের চরম সর্বনাশ

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

এখন গ্রীষ্মকাল। ঘরে-বাইরে অসহ্য গরম। এ সময় কোমল পানীয় পানের চাহিদা বাড়ে। বাইরে বেরোলে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কোমল পানীয় প্রচুর পান করা হয়। কোমল পানীয় পানে হয়ত সামান্য সময়ের জন্য স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে ডেকে আনছেন ভয়াবহ শরীরিক ক্ষতি। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানীয় পান করলে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়।

কোমল পানীয় ছোট-বড় সবার জন্যই ক্ষতিকর। শিশুদের এই ঠাণ্ডা পানীয় থেকে দূরে রাখাটাই ভালো।

চিনি দিয়ে বা কৃত্রিম মিষ্টি দিয়ে তৈরি কোমল পানীয় আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ এসব খাবারের কারণে হৃদরোগ এবং কয়েক ধরনের ক্যান্সারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। খবর বিবিসির।

হার্ভাড ইউনিভার্সিটির টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ পরিচালিত নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ৩০ বছর ধরে চালানো গবেষণাটির ফলাফল গতমাসে প্রকাশিত হয়। সারা বিশ্বের ৩৭ হাজার পুরুষ এবং ৮০ হাজার নারীর ওপর ওই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা গেছে, চিনি দিয়ে তৈরি কোমল পানীয় পানের কারণে অন্য কোনো কারণ ছাড়াই তাদের আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

গবেষণা বলছে, ওই জাতীয় পানীয় যত বেশি খাওয়া হবে, তাদের মৃত্যু ঝুঁকিও ততই বেড়ে যাবে।

গবেষক ও প্রধান লেখক ভাসান্তি মালিক এক বিবৃতিতে বলেছেন, যারা মাসে ১ বার এরকম চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় পান করে, তাদের তুলনায় যারা ৪ বার পর্যন্ত পান করে, তাদের আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি ১ শতাংশ বেড়ে গেছে। যারা সপ্তাতে ২ থেকে ৬ বার পান করে, তাদের বেড়েছে ৬ শতাংশ, আর যারা প্রতিদিন ১ থেকে ২ বার চিনির পানীয় পান করে তাদের বেড়েছে ১৪ শতাংশ। প্রতিদিন যারা ২ বারের বেশি এ ধরনের চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় পান করে তাদের আগাম মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়েছে ২১ শতাংশ।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় খেয়েছেন, তাদের আগাম হৃদরোগ এবং কিছু ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এটা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক এই কারণে যে, সারা বিশ্বে এখন কোমল পানীয় পানের প্রবণতা বাড়ছে।

আসুন জেনে নেই কোমল পানীয় খেয়ে যেভাবে অজান্তেই করছেন নিজের সর্বনাশ।

১. কোমল পানীয় হৃদরোগ ও ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। ২. কোমল পানীয় নারীদের গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত চা বা কফির মতোই কোমল পানীয় গর্ভধারণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ৩. কোমল পানীয়তে থাকা উপাদানগুলো শরীরের বিভিন্ন কোষগুলিতে প্রবেশ করে। ফলে অনেকটাই গর্ভধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ৪. কোমল পানীয় সুস্বাদু করে তোলার জন্য এক ধরণের মিষ্টি জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যা মানুষের শরীরে থাকা স্বাভাবিক প্রজননের গুণগুলিকেও নষ্ট করে দিতে পারে।

৫. ওজন বৃদ্ধি বা মোটা হওয়া মানে শুধু দেখতে খারাপ বা শারীরিক অস্বস্তিকর ব্যাপারই নয়, এটি নানাবিধ শারীরিক সমস্যাও তৈরি করে। মোটা হওয়ার সঙ্গে কোমল পানীয় বা সফট ড্রিংকসের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ৬. কোমল পানীয়ে প্রচুর পরিমাণ চিনি থাকে। ফলে প্রতিদিন কোমল পানীয় গ্রহণের ফলে একজন ব্যক্তির ডায়াবেটিস হওয়াটা নিশ্চিত হয়ে পড়ে। ৭. কোমল পানীয় দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যারামেলের রঙ আনার জন্য কোমল পানীয়ে পলি-ইথিলিন গ্লাইকোল নামে যে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, তা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

৮. কোমল পানীয়ে যে পরিমাণ স্যাকারিন ব্যবহার করা হয়, তা ইউরিনারি ব্লাডার ক্যান্সার অর্থাৎ মূত্রাশয়ের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। ৯. কোমল পানীয়ে ইথিলিন গ্লাইকোল নামে যে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, এটি প্রায় আর্সেনিকের মতোই বিষ। কিডনির ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব বেশি।

১০. কোমল পানীয়ের তাৎক্ষণিক বিপদ হচ্ছে গলা বা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি। আমাদের নাক, গলায় তথা শ্বাসতন্ত্রের শুরুর দিকের অংশে থাকে অসংখ্য সিলিয়া। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত যে ধূলিকণা, ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস গ্রহণ করি, এই সিলিয়াগুলো সেগুলোকে শরীরের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। কোমল পানীয় পান করলে এসব সিলিয়া নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। শুরু হয় টনসিলাইটস, ফেরিংজাইটিস, ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসজনিত রোগ। ১১. এসব ছাড়াও হৃদরোগ, দাঁতের ক্ষয়, হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষয়, আসক্তি তৈরি, বদহজম, অকাল বার্ধক্য ছাড়াও অত্যধিক ক্যাফেইনের কারণে অ্যাড্রিনাল রোগ ইত্যাদি হয়ে থাকে।

Spread the love
  • 433
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    433
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।