বগুড়ায় ধান কিনতে লটারি, দুর্ভাগ্যের শিকার অর্ধ লক্ষ কৃষক

0

বগুড়া প্রতিনিধি:

সারা দেশে ধানের দাম কম থাকায় সরকার কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ধান কিনতে লটারি করে মাত্র ৫০২ জন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একজন কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যে ১ মেট্রিকটন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন। স্থানীয় বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে কপাল পুড়েছে অর্ধলাখ কৃষকের।

ধুনট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলার পৌরসভা ও ৯ ইউনিয়নে ১৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ৫২ হাজার ৬৮ জন কৃষক বোরো ধান চাষ করেন। উৎপাদন হয়েছে, প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

মোটা ও চিকন মিলিয়ে ১ মণ (৪০ কেজি) ধান উৎপাদনে কৃষকের সর্বসাকূল্যে খরচ পড়ে ৭২০ টাকা। সেখানে তারা সবমিলিয়ে গড়ে মূল্যে পাচ্ছেন ৬৫০ টাকা। প্রতি মণে লোকসান গুণছেন ৭০ টাকা। ধুনটের বাজারে প্রতি মণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়। এ হিসাবে উৎপাদন খরচের চেয়ে লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের।

ধুনট উপজেলায় ৫২ হাজার ৬৮ জন কৃষক ধান চাষ করলেও সরকারি মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন মাত্র ৫০২ জন কৃষক। তারা প্রত্যেকে ১ টন করে ধান বিক্রি করতে পারছেন।

এছাড়া এই উপজেলার ৯৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত চাতাল মালিক সিদ্ধ চাল ২ হাজার ৯১৩ টন এবং আতপ চাল ৬৯৮ টন বিক্রির বরাদ্দ পেয়েছেন। এদিকে চাতাল মালিকরা চালের বরাদ্দ পেলেও সিন্ডিকেটের কারণে বাড়েনি ধানের দাম। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে লোকশানের মুখে পড়েছেন প্রকৃত ধান চাষীরা।

উপজেলার চৌকিবাড়ী গ্রামের ধান চাষী আলাউদ্দিন শেখ জানান, সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু ধানের দাম না থাকায় ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাদ্য বিভাগে ধান বিক্রি করবেন এমন ৩ হাজার কৃষকের তালিকা তৈরি করে উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির কাছে প্রেরন করা হয়েছে। তারা চূড়ান্ত তালিকা তৈরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

ধুনট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার কুণ্ডু জানান, বরাদ্দ কম থাকায় সবার কাছ থেকে ধান ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে গত ২৭ মে সোমবার ধুনট উপজেলা পরিষদে লটারির মাধ্যমে ৫০২ জন কৃষকের তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে ১ মেট্রিক টন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, খোলা বাজারে ধানের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করা হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাই খোকন বলেন, বাজারে ধানের মূল্য কম থাকায় কৃষকদের ক্ষতির সম্মূখীন হতে হচ্ছে। তাই সরকারি মূল্যে ধান ক্রয়ের চাহিদা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হবে।

অন্যদিকে আদমদীঘি উপজেলাতেও লটারির মাধ্যমে ৩৬৩ জন প্রান্তিক কৃষক সনাক্ত করে প্রাথমিকভাবে তাদের নিকট থেকে ধান ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ উপজেলায় কার্ডধারী ৪ হাজার ৯৪৩ জন কৃষক ইরিবোরো ধান চাষ করেছেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহেন শাহ হোসেন জানান, সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আবদুল্লাহ বিন রশিদের সভাপতিত্বে কৃষি কার্ডের নম্বর লটারির মাধ্যমে ৩৬৩ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। তবে প্রচার না থাকায় লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচিত করার বিষয়টি অনেকেই জানতে পারেননি।

এতে বঞ্চিত কৃষক মোহাম্মাদ আলী, জাহাঙ্গীর আলম, জিল্লুর রহমান, মোকছেদ আলী প্রমুখ কৃষক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Spread the love
  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    33
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।