পুঁতে রাখা হাসপাতালের সরকারি ওষুধ নিয়ে তদন্তে কমিটি গঠন

0

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার নিয়ে সারাদেশে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কৌতূহলী মানুষ কে এই ওষুধ চুরি করেছে তাকে ও তার সঙ্গীদের খুঁজে দ্রুততম সময়ে আইন আমলে এনে বিচার করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

রোববার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনের পেছনে সেপটিক ট্যাংকের কাছে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ওষুধের স্যাম্পল পুলিশ নিয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় সব ওষুধই সেখানে পড়ে রয়েছে। কয়েকজন আনসার সদস্য এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন।

এর আগে শনিবার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাটির নিচ থেকে প্রায় ১৫ বস্তা ওষুধ, গজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওষুধ চুরির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তা প্রত্যক্ষ করার পর সেসব ওষুধ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হবে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ওষুধ চুরিবিষয়ক অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, তিনি ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের প্রতিনিধি এবং ইউএনও সদর দেবাশীষ চৌধুরী। জেলা প্রশাসক জানান, আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহজাহান আলী জানান, তার নির্দেশে একই বিষয়ের ওপর ৩ সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউরোলজি বিভাগের ডা. রুহুল কুদ্দুসকে আহ্বায়ক করে কমিটির অপর সদস্যরা হলেন ডা. প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও ডা. আক্তারুজ্জামান। এ কমিটিও আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার কথা রয়েছে।

হাসপাতাল চত্বরে মাটিতে পুঁতে রাখা ওষুধ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহজাহান আলী বলেন, উদ্ধার হওয়া কোনো ওষুধের গায়ে সরকারি সিল নেই। এতে লাল-সবুজ চিহ্নও নেই।

এ ওষুধ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোরের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন ‘আমরা যে গজ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করি তা থান কাপড়ের তৈরি। অথচ যা পাওয়া গেছে তা কাগজের। তা ছাড়া স্টোরে থাকা কোনো ওষুধ খোয়া যায়নি বলে আমি স্টোরকিপার আহসান হাবিব ও স্টোর অফিসার বিভাস চন্দ্রের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ওষুধ ক্রয় বা গ্রহণের পর তা সার্ভে কমিটি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করানো হয়। সেসব তালিকা অনুসরণ করলে পরিষ্কার হবে যে এ ওষুধ সরকারি নয়। এমনকি তার স্টোর থেকে তা খোয়া যায়নি। ঘটনা যে বা যারাই ঘটাক তা ঘটেছে তিনি সাতক্ষীরায় যোগদানের আগে।

তিনি বলেন, আমি এখানে যোগ দান করেছি ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর।

উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের সেপটিক ট্যাংকের কাছ থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় ১৫ বস্তা ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

এদিন ভোরে বৃষ্টির পানিতে ওষুধভর্তি বস্তাগুলো বেরিয়ে পড়লে তা সবার নজরে আসে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় এসব ওষুধ, ক্যানোলা, জিপসোনা, গজ ব্যান্ডেজ ও চিকিৎসাসামগ্রী। বেরিয়ে পড়া এসব ওষুধ ফের মাটিচাপা দেয়ার জন্য শ্রমিকদের সঙ্গে দরকষাকষির সময় তা জানাজানি হয়ে যায়।

Spread the love
  • 123
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    123
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।