মসজিদের দানবাক্সের টাকায় নিজের উন্নয়ন করে কোটিপতি সামাদ মুন্সি

0

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বাসস্ট্যান্ড ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। সেই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সামাদ মুন্সি মসজিদের উন্নয়ন ও দানবাক্সের আয়ের টাকায় নিজের উন্নয়নের জন্য মেরে দিয়ে কোটিপতি বনে গেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের (মৃত) নোয়াব আলী বেপারীর ছেলে ছামাদ মুন্সি। প্রায় ২ যুগ ধরে অবৈধভাবে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুসল্লি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘সামাদ মুন্সির লেবাস এক রকমের আর কাজ করেন আরেক রকমের।

রাজনৈতিক কয়েকজন কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সামাদ বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ। সেই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি হাবিবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি হন। এরপর থেকে সরকারের পরিবর্তন ঘটলেও তিনি বহাল থাকেন সভাপতি পদে।

কয়েকজন স্থানীয় মুসল্লি জানায়, ‘মসজিদের আয় হলেও উন্নয়ন না করে লুটেপুটে খাচ্ছেন সভাপতি।’ হাবিবপুর গ্রামের হাসান, শাহিন, খোরশেদ, ফারুকসহ আরো অনেকেই জানান, মসজিদের টাকার পাশাপাশি সামাদ নিরীহ লোকদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। সামাদ মুন্সির বিরুদ্দে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ‘মসজিদের জন্য চাঁদা তুলে কোটিপতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, ফলের দোকান থেকে শুরু করে টং ও মার্কেটের দোকানেও মসজিদের নামে চাঁদা তোলেন বিএনপি নেতা সামাদ মুন্সী।

সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ। তার ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়- আল্লাহর ঘর মসজিদের নাম করে সমস্ত দোকানপাট এবং ফুটপাত থেকে যে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। যার মাসিক আয় দাঁড়ায় লক্ষ লক্ষ টাকা, সাধারণ হিসাবে মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকা হলে বাৎসরিক আয় ১২ লক্ষ টাকা ২৫ বৎসরে নরমাল হিসেবে ৩ কোটি টাকা আয় থাকার কথা। তার মধ্যে বৎসরে ২টি ঈদ ও ১টি রমজান মাস, দানের পরিমাণ আকাশ ছোঁয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে মসজিদের সেক্রেটারি জানান যে, মসজিদ কমিটির ঋণ আছে, ফান্ডে নগদ কোন টাকা নেই।

এ ছাড়া তিনি ২৫ বছর ধরে স্থানীয় মসজিদ কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন। এভাবে চাকরি বা ব্যবসা না করেও তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে মসজিদ কমিটিসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং জনগনের সম্মুখে টাকা আত্মসাৎকারির মুখোশ উন্মোচন করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

Spread the love
  • 28.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    28.3K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।