বায়ু দূষণ ঠেকাতে অভিনব সব উদ্যোগ ইথিওপিয়ার

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকৃতি এবং জলবায়ুর জন্য বায়ু দূষণ একটি জটিল সমস্যা। যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। বিশেষত শহরাঞ্চলে বায়ু দূষণের প্রকোপ আরও বেশি। এতে বিষিয়ে উঠছে আমাদের জীবন।

বায়ু দূষণ এখন একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়। ক্যানসার, স্থূলতা ও হৃদরোগের পর বায়ু দূষণ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। পঞ্চাশের দশকে ধোঁয়ায় মারা গিয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ। এরপর নড়েচড়ে বসে বিশ্ব নেতারা। বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিলেও তা এখনো উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এই বায়ু দূষণ বা পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে সম্প্রতি অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া। মোটরযানের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে চায় ইথিওপিয়া সরকার। এ জন্য দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবায় নির্দিষ্ট কিছু দিনে কোনো না চালানো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ডয়েচে ভেলের এক ফটো প্রতিবেদনে জানা গেছে, বায়ুদুষণের দিক থেকে আফ্রিকার শহরগুলোর মধ্যে আদ্দিস আবাবা অন্যতম। ৪ মিলিয়ন বাসিন্দার শহরটি মোটরযানের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় অনেক সময়। এ অবস্থা কাটাতেই মোটরযানের ব্যবহার কমিয়ে আনতে চাইছে সরকার।

বিশ্বে গাড়ি সবচেয়ে কম চলে ইথিওপিয়ায়। সেখানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি কিনলে প্রায় ৩০০ ভাগ কর দিতে হয়। এত খরচ অনেকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব হয় না। এ নিয়ে ক্ষোভও আছে জনমনে।

আদ্দিস আবাবায় গাড়িবিহীন একদিন:

পরীক্ষামূলকভাবে মাসের কিছু নির্দিষ্ট দিনে দেশটির রাজধানীতে মোটর যান চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এনেছে সরকার। গত ১২ মে ছিল এমনই এক দিন। সেদিন রাজধানীর বেশ কিছু অংশে মোটরযান চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন অনেকেই।

বিনা পয়সায় সাইকেল:

মোটরযানের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বিনামূল্যে প্রায় ৬০০ বাইসাইকেল দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। আর এতে সাড়াও মিলেছে বেশ। অনেকেই মোটরযান ছেড়ে বাইসাইকেলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বিদ্যুৎচালিত ট্রেন:

আফ্রিকার একমাত্র শহর আদ্দিস আবাবা, যেখানে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চলে। তবে সংখ্যাটা খুব বেশি নয়, যাত্রী ধারণক্ষমতাও যথেষ্ট নয়। বায়ুদূষণ কমাতে বিদ্যুৎচালিত রেলই হতে পারে মোটরযানের বিকল্প, মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ১২ মে আদ্দিস আবাবা শহরের রাস্তায় কোনো গাড়ি ছিল না। আর এ সুযোগে তরুণরা ফুটবল নিয়ে নেমে পড়েছে রাস্তায়। স্থানীয় একটি এনজিওর উদ্যোগের ফলে তরুণ ও কিশোরদের মাঝে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্কেটিং। যানমুক্ত দিনগুলো তাই স্কেটারদের জন্য কসরত করার বিশাল এক সুযোগ।

আদ্দিস আবাবাবাসীর দিন শুরু হয় খুব ভোরে। রাজধানীর মেসকেল স্কয়ারের মিউজিকের শব্দে ঘুম ভাঙে তাদের। মিউজিকের শব্দে ঘুম ভাঙার বিষয়টি তাদের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। শুধু তাই নয়, খুব ভোরে উঠে রাস্তায় ব্যায়ামও করেন অনেকেই। সপ্তাহান্তে এমনকি ভোর ৪টায়ও কিছু মানুষকে রাস্তায় দৌঁড়াতে দেখা যায়।

Spread the love
  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    28
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।