ফ্রান্সে সন্তানদের স্কুলে আনা-নেয়ার সময় মায়েদের হিজাব নিষিদ্ধ

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফ্রান্সে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় মায়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করতে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। রক্ষণশীল রিপাবলিকান পার্টির উত্থাপিত এই বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ১৮৬ এবং বিপক্ষে পড়ে ১০০ ভোট। এ সময় ভোটদানে বিরত ছিলেন ১৫৯ সিনেটর।

তবে বিলটি পাস হওয়ার জন্য পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অনুমোদন পেতে হবে।

রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতা জ্যাকলিন ইস্টারচে-ব্রিনিও এই বিলের সমর্থনে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে স্কুলে ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়নে আইনি ফাঁক পূরণ হবে।

তবে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী জ্যান-মাইকেল ব্লাঙ্কার বলেন, এই বিলটি রাজ্য পরিষদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে এবং এটি অভিভাবকদের ক্ষেত্রে তাদের বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে আসার জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করবে।

যদিও ব্লাঙ্কার বলেছেন, এই বিলে যারা সমর্থন দিয়েছেন, তাদের আমি সম্মান জানাই। তবে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন যাতে মায়েরা তাদের সন্তানদের স্কুলে আনা-নেয়ার সময় ধর্মীয় কোনো চিহ্ন বহন না করে।

এদিকে ফ্রান্সের মসজিদ ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোওসাউয়ি এই বিলকে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ বলে মন্তব্য করেছেন।

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করে আইন পাস

প্রাথমিক স্কুলে মুসলিম মেয়েদের হিজাব বা মাথায় যে কোনো ধরনের কাপড় পরা নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে অস্ট্রিয়া সরকার। বুধবার রাতে সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়। খবর ডয়েচে ভেলের।

আইনটি কোনো সাম্প্রদায়িক কারণে করা হয়নি- এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে সেটিতে লেখা হয়েছে, যে কোনো আদর্শগত বা ধর্মীয় প্রভাবান্বিত পোশাক, যা মাথা ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়, তা নিষিদ্ধ। তবে শিখদের পাগড়ি বা ইহুদিদের টুপি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। কারণ এ আইনে এমন মাথার কাপড়ের কথা বলা হয়েছে, যেটি সব চুল বা মাথার অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে।

সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর দেশটির ক্ষমতাসীন মধ্য ডানপন্থী দল পিপলস পার্টি এবং উগ্র ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টির সদস্যরা এটির পক্ষে ভোট দেন। তবে বিরোধী দলের প্রায় সব সদস্য বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

দেশটির ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন যে, মূলত মুসলমান মেয়েদের জন্যই এই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। পিপলস পার্টির আইনপ্রণেতা রুডলফ টাশনার বলেন, মেয়েদের নতিস্বীকার করা থেকে মুক্ত করতে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

এদিকে অস্ট্রিয়ার আনুষ্ঠানিক মুসলিম কমিউনিটি সংগঠন নতুন আইনটিকে ধ্বংসাত্মক এবং শুধুমাত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে এই আইনটির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।