বিএনপির পছন্দের ইউনাইটেড ফেলে চিকিৎসার জন্য ফখরুল কেন থাইল্যান্ডে?

0

বিশেষ প্রতিনিধি:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আজ বুধবার (১৫ মে) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের-০৮৮ ফ্লাইটে ব্যাংককের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আহমদ।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন বিএনপি মহাসচিব। এর আগেও সেখানে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি।

হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩ জুন ব্যাংকক গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল তিনি ব্যাংকক যান। বিএনপি মহাসচিবের হৃদরোগ ছাড়াও ঘাড়ে ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারিতে জটিলতা রয়েছে।

এদিকে মির্জা ফখরুলের থাইল্যান্ড যাত্রা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন। কেউ একে ‘বিশেষ উদ্দেশ্যে যাত্রা’ বলে অভিহিত করছেন, আবার কেউ বলছেন ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ। তবে কারন যা-ই হোক না কেন, খোদ বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তার এই থাইল্যান্ড যাত্রা নিয়ে নাখোশ।

কারন অনুসন্ধানে জানা যায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরেও অন্য সকল সাংসদের মত মির্জা ফখরুলের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের গ্রিন সিগনাল থাকা সত্ত্বেও তিনি শপথ নিয়ে সংসদে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এর পেছনে তিনি ‘বৃহত্তর স্বার্থ’ বলে কারন দেখিয়েছেন। দলের একটা অংশ মহাসচিব হিসেবে তার নেতৃত্বে নাখোশ। তার নেতৃত্ব দলকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে এর আগে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেছিলেন।

তবে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য আরেকটি অভিযোগ করেন। তারা বলেন, যেখানে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইউনাইটেড হাসপাতালকে পছন্দ করেন, আস্থা রাখেন, দলের একাধিক নেতা সেখানে চিকিৎসা নেন, এমনকি বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকরা সেখানে নিয়োজিত আছেন, তবুও কেন চিকিৎসার প্রয়োজনে ফখরুলকে থাইল্যান্ড যেতে হলো, সেটা তাদের বোধগম্য নয়।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় মির্জা ফখরুল স্বয়ং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের দেশের বাইরে চিকিৎসা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং ব্যাঙ্গ করেন। ক’দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যাওয়া নিয়ে বেশ উষ্মা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। তারও আগে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রসঙ্গেও দেশে চিকিৎসা করানো হচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্ন করেন। ফলে তার এই চিকিৎসা-যাত্রা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দও সমালোচনায় মুখর।

তবে এ বিষয়ে মওদুদ আহমেদ এর কাছে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি ‘মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন’ বলে পাশ কাটিয়ে যান।

Spread the love
  • 619
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    619
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।