ইন্টারনেট আসার আগেই ই-মেইল ব্যবহারের দাবী মোদির!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

১৯৯৫ সালে ভারতে ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে ই-মেইল ব্যবহার করতেন বলে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবী করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি তখন ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করতেন বলেও দাবী করেন।

কিন্তু ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়েরও প্রায় ১০ বছর পর ভারতে প্রথম বাণিজ্যিক ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্টের খবরে বলা হয়েছে, গত শনিবার হিন্দিভাষী টেলিভিশন চ্যানেল দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, সম্ভবত ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে ভিরামাগাম তেহসিলে একটি স্থানীয় র‌্যালিতে গিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা এলকে আদভানি। সেখানে ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আদভানির ছবি তুলেছিলেন মোদি। সেই ছবি আবার ই-মেইলে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল।

তবে ডেকান ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ভিএসএনএল প্রথম ১৯৯৫ সালের ১৪ আগস্ট ইন্টারনেট সেবা চালু করে। এর আগে ১৯৮৬ সালে ভারতে সর্বপ্রথম ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়। তবে তা শুধু ব্যবহার করত ভারতীয় এডুকেশনাল রিসার্চ নেটওয়ার্ক নামের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্যিকভাবে ভারতে ইন্টারনেট সেবা চালু হয় ১৯৯৫ সালে। আর পুরো বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারনেট সেবা চালু হয় ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে।

এই সময়ের মধ্যেই ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া শুরু করেছিল। জনপ্রিয় ই-মেইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হটমেইল যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৯৬-৯৭ সালে।

এদিকে মোদির ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করা নিয়েও বিতর্ক উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে ডিজিটাল ক্যামেরা। জাপানে ফুজি কোম্পানি এই ক্যামেরা চালু করেছিল। এর আগে ১৯৭৫ সালে ডিজিটাল ক্যামেরার ধারণা তৈরি হলেও, বাণিজ্যিকভাবে তা উৎপাদন ও বিক্রি করা হতো না।

মোদির এ ধরণের অবান্তর দাবীর পর স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপের ঝড় বইতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। টুইটার-ফেসবুকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাক্ষাৎকারের ওই অংশ পোস্ট করে কেউ সুক্ষ খোঁচা দিচ্ছেন মোদিকে। কেউ আবার সরাসরিই আক্রমণ করে লিখেছেন ‘জুমলাবাজ’ মোদি।

বর্তমানে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ হবে ১৯ মে। এর আগে ভারতজুড়ে প্রচারে নেমেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিচ্ছেন তিনি। এবার তাতে দেওয়া বক্তব্য নিয়েই তোলপাড় শুরু হলো।

ক্ষমতায় এসে বার বার ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদি। নোটবন্দির পর ক্যাশলেস ভারতের জিগির তুলেছেন। কিন্তু এবার এমন এক ‘ডিজিটাল’ বোমা ছুঁড়লেন, যার জেরে অস্বস্তি চরমে উঠেছে। মোদির নিজের এবং তার দল বিজেপির।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।