‘তুই হিন্দুর চেয়েও খারাপ’- শরবৎ বিক্রেতাকে গাল দিয়ে জনরোষে পুলিশ (ভিডিও)

0

সময় এখন ডেস্ক:

রমজান মাসে প্রকাশ্যে শরবৎ বিক্রি করায় এক শরবৎ বিক্রেতাকে ‘সাম্প্রদায়িকতামূলক’ গালাগাল দিয়ে হেনস্থা করেছেন সাদা পোশাকের এক পুলিশ কর্মকর্তা। এসময় উপস্থিত জনতার তীব্র রোষের মুখে ক্ষমা চেয়ে সটকে পড়তে বাধ্য হন পুলিশের ঐ কর্মকর্তা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, ‘যাদুঘরের সামনে শরবৎ বিক্রেতাকে চরম হেনস্থা করছিলেন ওয়াকিটকি হাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা। শরবৎ বিক্রেতার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলছিলেন। তিনি সমানে চার্জ করছিলেন শরবৎ বিক্রেতাকে, সে মুসলিম না হিন্দু তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বশেষ বলেছেন তুই হিন্দুর চাইতেও খারাপ, না হলে তুই রমজান মাসে প্রকাশ্যে শরবৎ বিক্রি করিস’?

এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়,ওয়াকিটকি হাতে সাদা পোশাকের পুলিশের এক কর্মকর্তা শরবৎ বিক্রেতাকে শাসাচ্ছিলেন। এসময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের তোপের মুখে মুখে পড়েন তিনি। একসময় উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে ঐ জায়গা থেকে সটকে পড়েন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। তবে অভিযুক্ত ঐ পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় জানা যায়নি।

অপরদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে এ নিয়ে মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। একেকজন এ নিয়ে একেক ধরণের মন্তব্য করতে থাকেন।

মুশতাক হোসাইন নামের একজন লিখেছেন, ‘রমজান মাসে রাস্তায় শরবৎ বিক্রি করা কি বেআইনী? দেশটা কি তালেবানি হয়ে গেল? স্বেচ্ছায় প্রকাশ্যে খাবার বিক্রি বন্ধ করা রোজাদারদের প্রতি সম্মান জানানো। কিন্তু কেউ রুটি রুজির নিদারুণ প্রয়োজনে রাস্তায় খাবার বিক্রি করতেই পারে, সে মুসলমান হলেও। এটা বেআইনীও নয়, ধর্ম বিরুদ্ধও নয়’।

হামিদুল ইসলাম নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘রমজান মাসে রাস্তার পাশে শরবৎ বিক্রি করা ধর্মীয় ও আইনগত কোনো দিক থেকেই কোন অপরাধ না হলেও বিক্রি করতে না দেয়ার মাধ্যমে একজন নাগরিকের অধিকার কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে আইনত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অপরাধ যিনি করলেন তাকে বাধা না দিয়ে উল্টো উৎসাহ প্রদান, সহযোগিতা করা এবং অপরাধের শিকার ব‍্যক্তির দিকে তেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে জনৈক পুলিশ সদস্য নিজেই আইনত অপরাধ করেছেন। এখন দেখার অপেক্ষা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেন’।

সুমাইয়া আকতার নামের একজন লিখেছেন, সত্যিই আপনাদের প্রতিবাদ আজ আমাকে মুগ্ধ করেছে, এমন দেশ কি আমরা চাইছিলাম যেখানে প্রসাশনের লোক বলে নিজেকে দাবি করে অন্য ধর্মকে হেয় করবে’!

রুমানা নাহিদ লিখেছেন, ‘শরবৎ বিক্রি হারাম আর রমজান মাসে প্রতিদিন ধর্ষণ করা কি তাহলে জায়েজ, খাবারে ভেজাল, ঘুষ দূর্নীতি কি যায়েজ’?

মহসিন কামাল নামের এক ব্যাক্তি লিখেছেন, ‘কেউ কাউকে হেয় না করে যার যার ধর্ম তারা তারা সুন্দরভাবে পালন করলেই তো হয়। ইসলামে অন্য ধর্মের মানুষের সাথে এই ধরনের আচরনের অনুমতি নাই বরং পাপ হবে পাপ। ইসলামে ধর্ম নিয়া বাড়াবাড়িও নিষেধ আছে। যারা এই বাড়াবাড়ি করে তাদের উচিত ভালো করে কোরআন ও হাদিস জানা। ইসলামে অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে বলা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালনের নির্দেশ দেয়া আছে’।

Spread the love
  • 8.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8.6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।