জয়ার ‘কণ্ঠ’ দেখে মুগ্ধ হৃদ-বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী (ভিডিও)

0

বিনোদন ডেস্ক:

একটি সিনেমা দেখে আবেগে আপ্লুত হলেন ভারতের বিখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী শেঠী ও তার টিম। সিনেমা দেখে ডা. দেবী শেঠী জানালেন, এই সিনেমা সবার অনুপ্রেরণা। নিজের রোগীদেরও এ সিনেমা দেখার পরামর্শ দেবেন তিনি।

সোমবার এ সিনেমার বিশেষ একটি স্ক্রিনিং হয় বেঙ্গালুরুতে। এর আগে গত এপ্রিলে এ সিনেমার ট্রেলার বের হয়।

মূলত ক্যান্সারে সচেতনতা বাতাতেই এই সিনেমা, যার নাম ‘কণ্ঠ’। এ সিনেমার পরিচালক-অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়। সিনেমার মূল চরিত্রে অর্জুন (শিবপ্রসাদ) আদতে একজন কণ্ঠশিল্পী, রেডিও জকি। একদিন হঠাৎই ধরা পরে তার গলার ক্যান্সার। চিকিৎসক তাকে স্বরযন্ত্রই বাদ দিতে হবে বললেন। এরপর তার অপারেশন হয়। অপারেশনের পর অর্জুনের গলা দিয়ে অদ্ভুত আওয়াজ বেরোতে শুরু করে।

সেখান থেকে তিনি মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসলেন তিনি এই নিয়েই সিনেমার গল্প। প্রধান তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিবপ্রসাদ, পাওলি দাম ও জয়া আহসান।

ট্রেলারটি দেখুন- সংবাদের নিচে

বিশ্বসেরা ১০ চিকিৎসকের একজন দেবী শেঠী

ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী ভারতের কর্নাটক রাজ্যের দক্ষিণ কনাডা জেলার কিন্নিগলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেসের প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. শুভ দত্তের পশ্চিমবঙ্গের সিকে বিরলা হাসপাতালেরও ক্যাথল্যাবপ্রধান।

ডা. শেঠী ৯ ভাই-বোনের মধ্যে ৮ম। মেডিকেলে ৫ম গ্রেডে পড়ার সময় তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার জনৈক সার্জন কর্তৃক বিশ্বের প্রথম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের কথা শুনে কার্ডিয়াক সার্জন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দেবী শেঠী ১৯৮২ সালে কস্তুরবা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পরে ইংল্যান্ড থেকে সার্জারি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। ১৯৮৯ সালে লন্ডনের উচ্চাভিলাষী চাকরির লোভ ত্যাগ করে ভারতে ফিরে আসেন। এসে ডা. রায়ের সঙ্গে কলকাতায় গড়ে তোলেন ভারতের প্রথম হৃদরোগ চিকিৎসা হাসপাতাল ‘বিএম বিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টার’।

ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ইউরোপিয়ানদের তুলনায় ৩ গুণ বেশি হওয়ায় একটি হাসপাতাল যথেষ্ট ছিল না। এজন্য ডা. দেবী শেঠী ও ডা. রায় মিলে আরও ৩টি হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলেন। বিএম বিড়লা হার্ট সেন্টার যাত্রা শুরুর অল্প দিনের মধ্যে ভারতের শ্রেষ্ঠ হার্ট হাসপাতালের একটিতে পরিণত হয়।

তিনি ১৯৯১ সালে ৯ দিন বয়সী শিশু রনির হৃৎপিণ্ড অপারেশন করেন, যা ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথম সফল শিশু হৃৎপিণ্ড অস্ত্রোপচার। এছাড়া তিনি কলকাতায় মাদার তেরেসার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর কিছুদিন পর তিনি ব্যাঙ্গালুরুতে চলে যান এবং মণিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫ হাজারের বেশি কার্ডিয়াক সার্জারি করেছেন।

ডা. দেবী প্রসাদ শেঠী পৃথিবীর ১০ জন সেরা চিকিৎসকের মধ্যে একজন। ভারতীয় হিসেবে তিনি ১ নম্বর। তিনি ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ৪ হাজার শিশুর সফল হার্ট সার্জারি সম্পন্ন করেন। লন্ডনের গাইস হাসপাতলে হার্ট সার্জন হিসেবে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়া ডা. দেবী শেঠীকে অনেকেই বলেন ‘অপারেটিং মেশিন’। তিনি কম খরচে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে ‘পদ্মভূষণ পদক’ লাভ করেন।

ডা. দেবী শেঠী যেসব শিশুর হার্ট সার্জারি করেন, তাদের অধিকাংশই গরিব পরিবার থেকে আসা। এদের সবাইকে তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা করেন। অন্যদিকে এ হাসপাতালে এসে যে কোনো বয়সের হৃদরোগী অর্থাভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন না।

Spread the love
  • 404
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    404
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।