৩০ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত্যু বরণ করে নিলো পোষা কুকুরটি

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কেন কুকুরকে মানুষের প্রিয় বন্ধু বলা হয় আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল এক পোষ্য। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে সে ৩০ জনকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে পারল না।

শুক্রবার রাতে উত্তর প্রদেশের বান্দার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ভয়াবহ আগুন লাগে। রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় অনেকেই তা টের পাননি। কিন্তু পোষা কুকুরটি টের পায়। চিৎকার করে সকলকে ডাকতে শুরু করে। তার চিৎকারেই অনেকের ঘুম ভেঙে যায়। কেউ কেউ বাইরে বেরিয়ে এসে দেখে যমদূত আসছে তেড়ে অগ্নিকাণ্ডের রূপ ধরে!

এরপর অ্যাপার্টমেন্টের সকলে নিরাপদে সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু কুকুরটি তখন বেরোয়নি। কারণ তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। নামার সময় কারো একবারও মনেও হয়নি কুকুরটির গলার শিকল খুলে দেওয়ার। ফলস্বরূপ নিজেকে বাঁচাতে না পেরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়।

পরে জানা যায়, বেজমেন্টে শর্ট সার্কিট থেকে প্রথমে আগুন লাগে। ওখানে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় সেটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সময়মতো কুকুরটি সবাইকে সতর্ক করায় ৩০ জনের প্রাণ বেঁচে যায়। পরে দমকল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই ঘটনায়, বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কারণ ওই অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফার্নিচার ফ্যাক্টরি রয়েছে। যার কোনও প্রয়োজনীয় অনুমতি নেই।

পোষা কুকুর, বিড়ালকে একটানা আটকে রাখলে শাস্তি হবে জেল জরিমানা

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় নতুন একটি আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে পোষা কুকুরকে চলাফেরার সুযোগ দিতে হবে, একটানা আটকে রাখা যাবেনা। একটানা ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বেঁধে রাখলে জেল জরিমানা ভোগ করতে হবে। এই অপরাধের জন্য ৬ মাসের জেল হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন যে, ১৯২০ সালের পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নিরোধ আইনের ভিত্তিতেই এই আইনটি করা হয়েছে। প্রত্যেক প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব হবে যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ করা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাকিবুল হক বলেন, এই আইনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ছাড়াও পোষা প্রাণী থেকে শুরু করে অন্য যে প্রাণী আছে সবাই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি আইনি অধিকারের মধ্যে চলে এলো। এর আগে ১৯২০ সালের আইনটি থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ ছিলোনা। বাংলাদেশে ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছের ওপর নির্ভর করে প্রাণী বাসায় বা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে কেমন থাকবে। তিনি যদি মানবিক হন, সহমর্মী হন তাহলে হয়তো ভালো থাকে।

Spread the love
  • 478
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    478
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।