সিরাজগঞ্জে মহাভারতে বর্ণিত বিরাট রাজার প্রাসাদ ও মন্দিরের সন্ধান!

0

ফিচার ডেস্ক:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মহাভারতে উল্লিখিত রাজপ্রাসাদ ও মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের খিরিতলা ও আশপাশের গ্রামে জরিপ চালিয়ে এ রাজপ্রাসাদ ও মন্দিরের সন্ধান পান রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষক মো. রিফাত-উর-রহমানের তত্ত্বাবধানে প্রথম বর্ষের ৩৮ জন শিক্ষার্থী এ জরিপে অংশ নেন। এ সময় বিভাগের আরেক শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, প্রাথমিক গবেষণায় জানা গেছে, ৮০০ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দের একটি সমৃদ্ধ নগরী ছিল এটি। আড়াই হাজার বছর আগে মহাভারতে বর্ণিত বিরাট রাজার প্রাসাদ ছিল এ অঞ্চলেই। জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের খিরিতলা এবং আশপাশের গ্রামগুলোয় অন্তত অর্ধশতাধিক উঁচু ঢিবির সন্ধান পাওয়া গেছে। যেগুলো বহু প্রাচীন আমলের ইট দিয়ে তৈরি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক রিফাত-উর-রহমান বলেন, আমরা স্থানটি পরিদর্শন করেছি। খিরিতলা গ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঢিবিটাকে স্থানীয়রা রাজার বাড়ি বলে অভিহিত করেন। ঢিবিতে প্রাচীনকালের ইট দিয়ে নির্মিত স্থাপনার ভগ্নাংশ দৃশ্যমান। ঢিবিসংলগ্ন কৃষিজমিতে হাঁটলে প্রচুর পরিমাণে মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ চোখে পড়ে। ঢিবিতে পাওয়া পোড়ামাটির চিত্রফলক দেখে ধারণা করা যায়, এগুলি গুপ্ত-পরবর্তী যুগের। এখানে গুপ্ত আমলের একটি মুদ্রাও পাওয়া যায়। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানটি গুপ্ত কিংবা পাল আমলের একটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। এখানে অবস্থিত প্রায় ৫০টি ঢিবির মধ্যে লুকায়িত আছে মন্দির এবং স্তূপাদির ধ্বংসাবশেষ। পাল আমল পর্যন্ত গৌরবের সঙ্গেই হয়তো এ জনপদ টিকে ছিল।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ জেলা গেজেটিয়ার পাবনা’ সূত্র মতে, নিমগাছী অতি প্রাচীন স্থান। এটিকে মহাভারতে বর্ণিত বিরাট রাজার শহর বলে অভিহিত করা হয়। প্রাচীন করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে প্রায় ৮ বর্গমাইল আয়তনের একটি নগরীর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এখানে। প্রত্নতাত্ত্বিক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ১৯৮৪ সালে তার বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, মহাভারতে বর্ণিত মত্স্য দেশের রাজা বিরাটের রাজপ্রাসাদ ছিল এ অঞ্চলে।

নৃত্যশীলা, কীচক স্থান, বুরুজ ইত্যাদি নামে অন্য ঢিবিগুলো পরিচিত। পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাসে থাকাকালীন এখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। প্রমাণস্বরূপ একটি প্রাচীন বৃক্ষকে মহাভারতে বর্ণিত শমীবৃক্ষ ও একটি স্থানকে বিরাট রাজার গো-গৃহ বলে চিহ্নিত করা হয়।

রিফাত-উর-রহমান আরো বলেন, এ ঢিবিসহ আশপাশের গ্রামগুলোয় প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার এখনো সুযোগ রয়েছে এবং আরো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা হওয়া উচিত। প্রাথমিক জরিপে বেশকিছু মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ এবং ইটের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

বণিক বার্তা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।