সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে পগারপাড় স্ত্রী-সন্তানেরা!

0

ফেনী প্রতিনিধি:

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা যখন জেলে, তখন সিরাজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (হিসাব) থেকে গত ১৮ লাখ টাকা তোলেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। এরপর গতকাল থেকেই ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার মকছুদুর রহমান সড়কের ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’ নামে দোতলা বাড়িটিতে তালা দেখা যায়। লম্পট অধ্যক্ষের স্ত্রী ও সন্তানেরা ঘরে তালা দিয়ে ‘পালিয়েছে’ বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে ৪ শতক জমি ক্রয় করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। বছর ৩ বছর আগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি করেন। এখানেই স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। নুসরাত হত্যার পরপরই ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দেয় পরিবারের সদস্যরা। তারা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

জানা যায়, গত ২৭ মার্চ নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের করা ওই মামলায় সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা অর্থ উত্তোলন করা হয়। যা সিরাজের মুক্তির আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করতে খুনিদের পেছনে ব্যয় করা হয়।

জেলে থাকার পরও সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে কীভাবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে থাকতে পারে। শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না, কীভাবে টাকাটা তুলেছে। এমনও হতে পারে সিরাজের স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। ব্যাংক খোলা হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত বলতে পারব।’

জানা গেছে, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ওই টাকা প্রথমে অধ্যক্ষ মুক্তির আন্দোলন, পরে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়। আর সিরাজের নির্দেশেই এ টাকা তোলে তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। পরে এর একটি অংশ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, শিবির ক্যাডার নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীমকে দেন তিনি। এ টাকা পাওয়ার পরই ৩ জনের নেতৃত্বে ‘সিরাজ উদ দৌলা সাহেব মুক্তি পরিষদ’ গঠন করা হয়। তারা সিরাজের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশও করে।

এ কমিটিকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। তারা দলে টেনে নেয় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকেও। তবুও সিরাজকে মুক্ত করতে পারেনি তারা। এতে সিরাজ ক্ষুব্ধ হয়ে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এমনকি তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার আগের দিন (৫ এপ্রিল) বিকালে অন্যতম পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীমসহ ৫ জন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছবিও তোলে। সেসব ছবি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্ত দলের হাতে এসেছে।

এদিকে পলাতক পরিবারটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিবেক যান ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার মকছুদুর রহমান সড়কের ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’ নামে দোতলা বাড়িটির সামনে। কথা হয় ফেরদৌস মঞ্জিলের বিপরীত দিকের বাড়িতে বসবাসকারী মো. ইব্রাহিমের সাথে। স্ত্রী আর মেয়ে নিয়ে ওই ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি। ইব্রাহিম জানান, ৪/৫ দিন আগে ওই বাড়ির লোকজন তালা দিয়ে চলে গেছেন। তবে তারা কোথায় গেছেন- তা বলতে পারেননি ষাটোর্ধ্ব এই প্রতিবেশী।

স্থানীয়রা জানান, আমরা আসলে এতো কিছু জানতাম না। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ বলেই মনে হত। এখন টিভির খবরে আর পত্রিকায় দেখে ওনার সম্পর্কে জানতে পারছি। এখন তার এসব অপকর্মের কথা জেনে আমরা প্রতিবেশী হিসেবে লজ্জিত ও বিব্রত।

তারা বলেন, ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী রোড ও মকছুদুর রহমান সড়কে জামায়াতকেন্দ্রিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন এই সিরাজ। নানাভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবানও হন। এসব খাত থেকে পাওয়া অর্থে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা বাড়ি তৈরি করেন তিনি।

সোনাগাজীর ৮নং আমিরাবাদ ইউনিয়নের চর কৃষ্ণজয় গ্রামে অধ্যক্ষ সিরাজের বাড়িতে গিয়েও দেখা যায় তার ঘরে তালা। বাড়ির সামনে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। সোনাগাজী মডেল থানার এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৪ পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যক্ষ সিরাজের ভাবি (বড় ভাইয়ের স্ত্রী) হাছিনা আক্তার বলেন, সিরাজ উদ দৌলার বাড়িতে একটি ঘর থাকলেও এখানে কেউ থাকেন না। তিনি বাড়িতে খুব কম আসেন। পরিবার নিয়ে থাকেন ফেনীর পাঠানবাড়ীতে।

Spread the love
  • 661
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    661
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।