ছাত্র-ছাত্রী পাশাপাশি বসা ইসলামবিরোধী- তাই শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্থানের ভাওয়ালপুরের সরকারি সাদিক এগারটন কলেজে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের ধুয়া তুলে এক অধ্যাপককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার কলেজটির ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী তাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে ডন অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে।

কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক খালিদ হামিদ নিজ অফিসে পা রেখেছিলেন। তখন ওই শিক্ষার্থী এসে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছুরিকাঘাত করেন।

কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে খাতিব হুসেন নামে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে অধ্যাপক হামিদের একটা বিষয় নিয়ে তর্ক হচ্ছিল। অনুষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন অধ্যাপক হামিদ। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের একসঙ্গে বসার আয়োজনকে ইসলামবিরোধী বলে মনে করতেন শিক্ষার্থী খাতিব হুসেইন। কাজেই এভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনে আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

পুলিশ জানায়, এক পর্যায়ে খাতিব তার শিক্ষকের পেট ও মাথায় ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহতাবস্থায় অধ্যাপক খালিদ হামিদকে ভাওয়ালপুর ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।

ছুরিসহ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। অধ্যাপক খালিদ হামিদের পুত্র সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হত্যাকারী শিক্ষার্থী খাতিবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

শিক্ষকপুত্র বলেন, আমার বাবা যখন অফিসের ভেতর পা বাড়িয়েছেন, তখন ওই শিক্ষার্থী তাকে ছুরি হামলা করেন। তার মাথায় ও পেটে আঘাত করা হয়েছে। আমার বাবা মাটিতে পড়ে যান। তখন আমি তার দিকে দৌড় দিই। কিন্তু তার আগেই ওই শিক্ষার্থী রক্তাক্ত ছুরি হাতে চিৎকার করে বলেন- আমি তাকে হত্যা করেছি। আমি তাকে বলেছি, অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের এক সঙ্গে বসালে তা ইসলাম সমর্থন করে না।

শিক্ষকপুত্র আরও জানান, হামলাকারী শিক্ষার্থী আরও বলেন- ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্যে অশ্লীলতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

তবে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খাতিব হোসেন নামের ওই শিক্ষার্থী বলছেন- আমি ইংরেজির অধ্যাপককে হত্যা করেছি। কারণ তিনি ইসলাম বিরোধী কাজ করেছেন।

Spread the love
  • 3.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.3K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।