মাতাল বরকে জামা-প্যান্ট খুলিয়ে বরযাত্রীসহ ফেরত পাঠালো কনে

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের বিহারের ছপরা জেলার তরৈয়া থানার ডুমরি ছপিয়া গ্রামে মদ পান করে বিয়ে করতে যাওয়ায় বরকে ফেরত পাঠালো কনে। পাত্রের মাতলামিতে জেরবার হয়ে পাত্রী বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এসব নিয়ে বিয়ে বাড়িতে ব্যাপক গোলমাল হয়। পাত্র সমেত বরযাত্রীদের আটকে রাখা হয় রাতভর। সকালে বরের জামা-প্যান্ট খুলে নিয়ে বরযাত্রীসহ সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বরের গাড়িতে রাখা বিয়ের পণ হিসেবে সমস্ত গয়না ও জিনিসপত্র ফেরত নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ছপরার মফসসল থানা এলাকার মগাইডিহা গ্রাম থেকে ডুমরি ছপিয়া গ্রামে বিয়ে করতে গিয়েছিলেন শিবপূজন সাহের ছেলে বাবলু কুমার। রুক্ষ অঞ্চল বিহারে বিয়ের জন্য যাত্রার আগে গলা ভিজিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্রাটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছিল। তাতেই বিপত্তি বাধে। বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে মাতলামি শুরু করেন বাবলু কুমার। নারীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন সেখানে।

এ অবস্থায় বিয়ের পিঁড়িতে ঠিকমতো বসতেও পারছিলেন না বাবলু। এ সব দেখে বেঁকে বসেন পাত্রী রিঙ্কি কুমারী। সোজা বিয়ের মণ্ডপ থেকে উঠে ঘরে চলে যান তিনি। পাত্রীকে সবাই বোঝানোর চেষ্টা করলেও রিঙ্কির মা রাজি হননি। এমন পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর পাত্রপক্ষ গায়ের জোর দেখাতে গেলে গ্রামের লোক তাদের আটক করে ঘরে বন্দি করে রাখে। পাত্রপক্ষের অনেকেই মদের নেশায় চুর হয়ে ছিলেন। তাই আটক অবস্থায়ও হিতে বিপরীত হওয়ার ভয়ে পুলিশকে ফোন করার সাহস করেননি তারা।

আরো জানা যায়, সকালে রিঙ্কির বাড়ির লোকজন বরযাত্রীদের ছেড়ে দেন। তবে রিঙ্কির মায়ের নির্দেশে বাবলু কুমারের জামা-প্যান্ট খুলে নেওয়া হয়। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার জেরে ত্রিভুবন শাহের গোটা পরিবার মানসিক চাপে। সাংবাদিকের সঙ্গে কেউই কথা বলতে চাননি। তবে আত্মীয়েরা রিঙ্কির প্রশংসাই করছেন। যেভাবে মাতাল পাত্রের বিরুদ্ধে রিঙ্কি বিদ্রোহ করেছে, তা বিহারের মতো রাজ্যে দেখা যায় না বলেই অনেকের মত। রিঙ্কির পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, রাজ্যে মদ বন্ধ। বিয়ের অনুষ্ঠানে মদ খেয়ে যাওয়ায় পাত্রী সরাসরি পাত্রকে বাতিল করার ঘটনা প্রশংসার বিষয়। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে রিঙ্কিকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও ভাবছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

Spread the love
  • 236
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    236
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।