পরকীয়াতে মহিলারাই বেশি খুশি হন- সমীক্ষায় দাবি!

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

পরকীয়া শুনলেই অনেকেরই বুকের ভিতর দুরু দুরু শুরু হয়ে যায়। কেউ আবার নাক সিটকায়। তবে এ কথা মোটামুটি সকলেই মানবেন যে, সাধারণ প্রেমের গল্পের চেয়ে পরকীয়ার ‘মশলা’ মাখানো গল্প অনেক বেশি মুখরোচক, অনেক বেশি আকর্ষণীয়! তবে পরকীয়া মানেই অভিযোগের আঙুল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উঠে পুরুষদের দিকেই। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, পরকীয়া সম্পর্কে পুরুষদের তুলনায় মহিলারাই খুশি হন বেশি!

কানাডার একটি অনলাইন ডেটিং এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সার্ভিস অ্যাপ ‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’ সম্প্রতি একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল বিবাহিত পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক অ্যালিসিয়া ওয়াকারের নেতৃত্বে প্রায় ১০০০ জনের মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়। আর তাতেই জানা যায়, পরকীয়া সম্পর্ক নাকি মহিলারাই বেশি উপভোগ করেন।

‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’র এই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব মহিলারা বিবাহিত জীবনে তেমন সুখী নন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারাই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন।

সমীক্ষায় জানা গেছে, এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শরীর ছাড়া আর কিছুই তেমন গুরুত্ব পায় না। পরকীয়ায় জড়িত এই মহিলারা প্রত্যেকেই নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ সোজা-সাপটা তাদের পরকীয়া সম্পর্কের সঙ্গীকে জানিয়ে দেন আগে ভাগেই। এই সব সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মহিলারাই ব্যক্তি স্বাধীনতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

অধ্যাপক ওয়াকারের মতে, নিজেদের বিবাহিত জীবনের সুপ্ত বাসনা এবং প্রসমিত কামনাকে পূরণ করতেই বেশির ভাগ মহিলারা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এক কথায়, নিজেদের বিবাহিত জীবনের অপূর্ণতা এবং হতাশা থেকেই বেশির ভাগ মহিলারা এই ধরণের সম্পর্কে জড়ান।

পরকীয়ার সংজ্ঞা:

পরকীয়া (Adultery বা Extramarital affair বা Extramarital sex) হল বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকান্ড। মানবসমাজে এটি লঘু বা গুরুভাবে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য। পাশ্চাত্য আধুনিক সমাজে এর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলেও এটি আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না, তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরকীয়াকারী ব্যক্তির বিবাহিত সঙ্গী তার সাথে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আবেদন করতে পারেন। তবে ইসলামি রাষ্ট্রসমূহে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা হল পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড প্রদান। মনোচিকিৎসায় একথা স্বীকৃত যে, পিতামাতার পরকীয়া সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এবং সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সন্তানের মানসিক বিষন্নতার ও আগ্রাসী মনোভাবের জন্ম দেয়। এছাড়া পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতিতে পরকীয়া প্রভাব রাখে।

Spread the love
  • 132
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    132
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।