মাছের ড্রামে রোহিঙ্গা পাচার: ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে

0

কক্সবাজার সংবাদদাাতা:

সপরিবারে উধাও হয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা! উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অনেকেই মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ছে, কেউ কেউ উন্নত জীবনের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রিক্সা চালানো, গার্মেন্টস বা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে স্থায়ী বসবাসের লোভে গোপনে ক্যাম্প ত্যাগ করছে।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে ক্যাম্প পালানোর প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও প্রতিরোধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। চলতি মাসে ট্রাকে মাছ সরবরাহে ব্যবহৃত ড্রামের ভিতরে অবস্থান নিয়ে সড়ক পথে পালানোর সময় সেনা বাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে ২৫ জন রোহিঙ্গা আটক হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এই রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক এদেশিয় এবং পুরনো রোহিঙ্গা দালালরা মালয়েশিয়া পাড়ি জমানোর জন্য রোহিঙ্গাদের উদ্বুদ্ধ করছে। গত মাসের প্রথম সাপ্তাহে বিজিবি সদস্যরা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ চরাঞ্চল থেকে ১৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে হস্তান্তর করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দালালের সহায়তায় মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ক্যাম্প ত্যাগ করেছিল।

কুতুপালং ক্যাম্পের ১২নং ব্লকে কর্মরত এনজিও সংস্থা ইপসার এক কর্মকর্তা গতকাল রবিবার ১৩ জানুয়ারি সকালে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করে বলেছেন, বেশ কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে যে কোনও সময়ে ক্যাম্প ত্যাগ করতে পারে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইপসার ওই কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এদিকে কুতুপালং রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা রশিদ আহমদ রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পালানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নিবন্ধনের পরে এসে বাংলাদেশে প্রবেশকারী কিছু রোহিঙ্গা আছে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি। তাই তারা সরকারিভাবে প্রদত্ত ত্রাণ সামগ্রীও পায়না। এই রোহিঙ্গারা জীবন-জীবিকার তাগিদে ও উন্নত জীবন যাপনের আশায় ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমিত একটি জায়গায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। এই রোহিঙ্গাদের কে, কখন, কোথায় যাচ্ছে তার কোন নজরদারি নেই। কিছু রোহিঙ্গা শহরের গার্মেন্টসে অথবা বিভিন্ন কাজের সন্ধানে গোপনে ক্যাম্প ছাড়ছে। অনেকেই বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বসবাসরত (পুরনো রোহিঙ্গা) আত্মীয় স্বজনের আহ্বানে ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে।

কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পালানোর কোন সুযোগ নেই। যে রোহিঙ্গারা নতুন করে এসে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে, তারাই মূলতঃ সু-কৌশলে ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছে। টাকার বিনিময়ে এদেরকে সহায়তা দিচ্ছে কিছু এদেশিয় দালাল।

উখিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, সড়ক পথে ৪টি পুলিশ চেকপোষ্ট দিয়ে বিশাল রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তবুও যেসব রোহিঙ্গা পালাতে গিয়ে ধরা পড়ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকারের দক্ষতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হলে ক্যাম্প পালানো রোহিঙ্গাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পালানো প্রবণতা প্রতিরোধে আরো সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান।

Spread the love
  • 4.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4.6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।