বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২য় এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড হচ্ছে

0

সময় এখন ডেস্ক:

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২য় এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি (এডিএ) ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে। বিদ্যমান এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারির বিভিন্ন ইউনিট পরিচালনায় প্রস্তাবিত এই ব্রিগেডে ১০৯ জন জনবল ও ১০টি যানবাহন যুক্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি সরকারের প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এই প্রস্তাবের পক্ষে সুপারিশ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিষয়ক সচিব এন এম জিয়াউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বর্তমানে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিটের সংখ্যা ১১টি এবং এসব ইউনিট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য মাত্র ১টি এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড রয়েছে। সামরিক সক্ষমতা অনুযায়ী, এ ধরনের একটি ব্রিগেড দিয়ে একই বড়জোর ৩/৪টি ইউনিটকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা সম্ভব।

প্রসঙ্গত, নিয়মানুযায়ী যে ব্রিগেড একাধিক ইউনিট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, সেই সব ইউনিট সাধারণত একই সেনানিবাসে অবস্থান করে। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডটি ঢাকায় অবস্থান করলেও এই ব্রিগেডের অধীন ইউনিটগুলো বিভিন্ন সেনানিবাসে অবস্থান করছে। ফলে ইউনিটগুলোকে আদেশ, নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক কাজ, প্রশিক্ষণ অপারেশন এবং অভিযান একটি মাত্র ব্রিগেডের পক্ষে পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য। এছাড়া, ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে আরও এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিট সংযোজন হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর জন্য ২য় এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড গঠন করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তি ও কৌশলগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দেশে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প ও গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। এরমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও পদ্মাসেতু অন্যতম। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত পরিস্থিতি ও চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর, অয়েল রিফাইনারি, কক্সবাজার বিমানবন্দর, আবহাওয়া রাডার স্টেশন, বটতলী রাডার স্টেশন, কর্ণফুলি ব্রিজের আকাশ নিরাপত্তা জরুরি। জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখতে উন্নয়ন প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি মূলত ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। জয়েন্ট এয়ার ডিফেন্স ড্রাফট ডকট্রিন অনুযায়ী, বিমান ও নৌবাহিনীর নিজস্ব স্থাপনা ও জাহাজ ছাড়া বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনায় আকাশ প্রতিরক্ষা দেওয়ার সার্বিক দায়িত্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর।

জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় শত্রু বিমানের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা দিতে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিদ্যমান বিভিন্ন আর্টিলারি রেজিমেন্টকে দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মাত্র একটি ব্রিগেড রয়েছে। এ অবস্থায় প্রযুক্তি ও কৌশলগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ইউনিট/সাব-ইউনিটগুলো যুদ্ধ ও শান্তিকালীন উভয় পরিস্থিতে প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক কাজ ও অন্যান্য বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতে দ্বিতীয় ব্রিগেড গঠন করা জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় ব্রিগেড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৭ সালে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি (এডিএ) ব্রিগেডটি চট্টগ্রামে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন গত বছর প্রতিরক্ষামন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাবের সার সংক্ষেপ পাঠান। সার সংক্ষেপ অনুমোদনের পর অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতের নিয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান প্রতিরক্ষা সচিব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ৬ জানুয়ারি প্রস্তাবটি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উত্থাপন করে। কমিটি প্রস্তাবটির পক্ষে সুপারিশ করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, নতুন এই ব্রিগেডে একজন ব্রিগেড কমান্ডার, একজন ব্রিগেড মেজর, জেনারেল স্টাফ অফিসার-২ (মেজর, সিঅ্যান্ডই), একজন ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট অ্যাডজুটেন্ট অ্যান্ড কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (মেজর) ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর ইলেট্রিক্যাল অ্যন্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (মেজর), জেনারেল স্টাফ অফিসার-৩ (ক্যাপ্টেন, এডুকেশন), অফিসার কমান্ডিং (ক্যাপ্টেন), স্টাফ ক্যাপ্টেন (ক্যাপ্টেন) অর্ডন্যান্স, প্রশাসনিক জুনিয়র কমিশনড অফিসার (সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার), ব্রিগেড অর্ডন্যান্স জুনিয়র কমিশনড অফিসার (ওয়ারেন্ট অফিসার), সার্জেন্ট, কর্পোরাল, ল্যান্স কর্পোরাল ও সৈনিকসহ ১০৯ জন জনবল থাকবে। এছাড়া, ১০টি যানবাহন যুক্ত হবে এই ব্রিগেডে।

Spread the love
  • 1.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.8K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।