বলাৎকারে ব্যর্থ মাদ্রাসা ছাত্রকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, হুজুর পলাতক

0

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা:

শিশু কিশোর বলাৎকারের ঘটনাগুলো প্রায় প্রতিদিনই উঠে আসছে গণমাধ্যমগুলোতে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে নির্যাতনকারীরা। লোকলজ্জার ভয়ে এবং সামাজিক চাপের মুখে পড়ে নির্যাতিত শিশুদের অভিভাবকরাও অভিযোগ তুলে নিচ্ছে। ছাড়া পেয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে এই নরপশুরা।

এবার লক্ষ্মীপুরে ইয়াছিন আরাফাত নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত ওই ছাত্র লাহারকান্দি গ্রামের আব্দুর লতিফের ছেলে এবং রওযাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার হিফজুল কুরআন বিভাগের ছাত্র।

বৃহস্পতিবার সকালে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। এর আগে পৌর শহরের পশ্চিম লাহারকান্দি এলাকার রওযাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের ফয়েজী পলাতক রয়েছেন।

আহত ছাত্রের ভগ্নীপতি মো. সলিম জানান, হিফজুল কুরআন বিভাগের ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত বেশ কিছু সমস্যার জন্য বর্তমান মাদ্রাসা হতে অন্যত্র ভর্তি হতে চায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল কাদের ফয়েজী তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে বেদম মারধর করে। পরে তাকে গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

আরাফাতের মাদ্রাসা পরিবর্তনের কারন জানতে চাওয়া হয় ভগ্নিপতি সলিমের কাছে। প্রথমে এড়িয়ে যেতে চাইলেও পরে মুখ খোলেন সলিম। বলেন, ফয়েজী হুজুর আরাফাতের সাথে খারাপ কাজ (বলাৎকার) করতে চেয়েছিল। বেশ কিছুদিন আগে একবার জোর করে। কিন্তু সোমবার আবারও জোর করলে আরাফাতও তা প্রতিহত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারে ফয়েজী। আরাফাত তাই এখানে আর পড়তে চাচ্ছে না।

এদিকে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, ছাত্রটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসা চলছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আ.স.ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।