কেন সাকিব সেরা, টাইগারদের ২৬তম টি২০ জয়ে বুঝিয়ে দিলেন

0

স্পোর্টস ডেস্ক:

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নামা সব দলই টাইগারদের সমীহ করে মাঠে নামে। কিন্তু টি২০-তে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই বিপরীতে। ৮৪টি টি২০ ম্যাচের বিপরীতে আজেকর আগে জয় ছিল মাত্র ২৫টিতে। গত ম্যাচে উইণ্ডিজদের বিরুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর অসামান্য নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়ায় আজ টাইগাররা, তাতে জয়ের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২৬টিতে। আর ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাকিব বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি বিশ্বসেরা।

আগের ম্যাচে ডুবিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। আর আজকের ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নায়ক ওই ব্যাটসম্যানরাই! লিটন দাসের হাফসেঞ্চু্রির পর ঝড় তুলেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। তবে অলরাউন্ডার সাকিব ছাপিয়ে গেছেন সবকিছুকে। ব্যাটিংয়ের পর তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

মিরপুরের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২১১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল স্বাগতিকরা। কঠিন এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ক্যারিবিয়ানরা ১৯.২ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে করতে পেরেছে ১৭৫ রান। তাতে ৩ ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকরা ১-১-এ ফেরালো সমতা। শনিবারের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিশ্চিত হবে সিরিজ জয়ী। এর আগে সিলেটের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হেরেছিল ৮ উইকেটে।

ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা যখনই ভয় ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন, তখনই জ্বলে উঠেছেন সাকিব। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচায় তার শিকার ৫ উইকেট, যা টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। নিকোলাস পুরানকে আউট করে উইকেট উৎসব শুরু করা সাকিবের জোড়া আঘাতে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শিমরন হেটমায়ার ও ড্যারেন ব্রাভো। পরে কর্লোস ব্র্যাথওয়েট ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে আউট করে পূরণ করেন কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের প্রথম ৫ উইকেট।

সাকিবের দিনে ক্যারিবিয়ান ইনিংসের সর্বোচ্চ রান এসেছে রোভম্যান পাওয়েলের ব্যাট থেকে। ৩৪ বলে এই অলরাউন্ডার করেছেন ৫০ রান। ৩৬ রান এসেছে শাই হোপের ব্যাট থেকে। আর কিমো পল করেছেন ২৯ রান।

ম্যাচসেরা সাকিব

ব্যাট হাতে ২৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৪২ রানে। বোলিংয়ে আবার ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচায় পেয়েছেন ৫ উইকেট। ব্যাট-বলে চমৎকার একটি দিন পার করা সাকিবের হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

সাকিবের জোড়া আঘাত

হাতে আঘাত পেয়েছিলেন সাকিব। ব্যথা নিয়েই এলেন বোলিংয়ে। আর এসেই তার জোড়া আঘাত। এক ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক ফিরিয়েছেন শিমরন হেটমায়ার ও ড্যারেন ব্রাভোকে।

ইনিংসের দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে হেটমায়ারকে আউট করে শুরু সাকিবের উইকেট উদযাপন। ১৭ বলে ১৯ রান করা হেটমায়ারকে ক্যাচ বানান সাইফউদ্দিনের হাতে। ওভারের শেষ বলে আবার সাকিবের উইকেট উৎসব। এবার বাংলাদেশ অধিনায়ক ফেরান ড্যারেন ব্রাভোকে। সাকিবের ঘূর্ণিতে খেই হারিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে সহজ ক্যাচ দেন ২ রান করা ব্রাভো।

মিরাজের শিকার হোপ

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তার ঝড়ে প্রতিরোধও গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। মিরপুরের দ্বিতীয় ম্যাচেও জ্বলে উঠেছিল শাই হোপের ব্যাট। যদিও বেশিদূর যেতে দেননি তাকে মেহেদী হাসান মিরাজ।

ব্যাটে বসন্ত চলছে হোপের। বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে সিরিজে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শুরুতেও ছিলেন স্বরূপে। মিরপুরের দ্বিতীয় ম্যাচেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। যদিও বেশিদূর যেতে দেননি মিরাজ। এই স্পিনারের বলে ১৯ বলে ৩৬ রান করে ফিরে গেছেন হোপ। ৬ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি লিটন দাসের হাতে।

রনি ফেরালেন লুইসকে

শুরুতেই বাংলাদেশেকে উইকেট এনে দিলেন আবু হায়দার রনি। এই পেসারের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন এভিন লুইস। ব্যাটে বল লাগার পরও আম্পায়ার তাকে এলবিডাব্লিউ দিয়েছিলেন, তাতে ক্ষোভ ঝরেছিল লুইসের অঙ্গভঙ্গিতে। সে যাত্রায় ‘বেঁচে’ গেলেও হায়দারের বলে আর রক্ষা হয়নি। এই পেসারের বলে ‘বিগ’ শট খেলতে গিয়ে ক্যারিবিয়ান ওপেনার ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন লিটন দাসের হাতে। আউট হওয়ার আগে লুইস করেছেন মাত্র ১ রান।

বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১১

এতদিন ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ১৯৩। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে রেকর্ডটা নতুন করে লিখলো টাইগাররা। মিরপুরে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে স্কোরে জমা করেছে ২১১ রান।

একটুর জন্য টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভাঙা হয়নি। দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ২১৫ রান। গত মার্চে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গড়া ওই রেকর্ড ভাঙা না গেলেও ঘরের মাঠের সর্বোচ্চ রানকে টপকে গেছে। এ বছরের শুরুর দিকে লঙ্কানদের বিপক্ষেই মিরপুরে ১৯৩ রান করেছিল টাইগাররা।

লিটন দাসের হাফসেঞ্চুরির (৩৪ বলে ৬০) পর সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ইনিংস দুটিতে ২০০ ছাড়ানো স্কোর গড়েছে বাংলাদেশ। লিটনের তৈরি করা ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে একের পর এক শট খেলেছেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটে ঝড় তুলে মাহমুদউল্লাহ ২১ বলে ৭ বাউান্ডারিতে অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে। অন্যদিকে ক্যারিবিয়ান বোলারদের ওপর টর্নেডো বইয়ে সাকিব ২৬ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় খেলেছেন হার না মানা ৪২ রানের ইনিংস।

আগের ম্যাচে আলো ছড়ানো শিলডন কট্রেল ৩৮ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার ওশানে থমাস ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের।

Spread the love
  • 71
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    71
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।