বাঘের থাবায় ছিন্নভিন্ন ক্যারিবিয়ানরা, সিরিজ বাংলাদেশের

0

স্পোর্টস ডেস্ক:

এক ম্যাচ জিতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল সফরকারীরা। কিন্তু স্বমূর্তিতে ফিরতে সময় নেয়নি টাইগাররা। থাবার আঘাতে ছিঁড়েখুঁড়ে সব স্বপ্ন ওলট পালট করে দেয় মাশরাফি বাহিনী। বাংলাদেশ শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। অসাধারণ বোলিংয়ের পর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয়টা এলো তাই সহজেই। সিলেটের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিকরা।

একা হাতে লড়ে যাওয়া শাই হোপের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ক্যারিবিয়ানরা ৯ উইকেটে করেছিল ১৯৮ রান। সহজ এই লক্ষ্য তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের চমৎকার দুটি ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ১১.৩ ওভার আগেই টপকে যায় বাংলাদেশে। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তামিম অপরাজিত ছিলেন ৮১ রানে, আর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সৌম্য করে যান ৮০ রান।

পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন তামিম ও সৌম্য। ২৩ রান করা লিটন দাসের আউটের পর রানের প্রতিযোগিতায় কখনও তামিম এগিয়ে গেছেন তো, পরক্ষণে এগিয়েছেন সৌম্য। হাফসেঞ্চুরির দৌড়ে তামিমই এগিয়ে ছিলেন, কারণ সৌম্যর আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তিনি।

তবে ফিফটি পূরণের পর তামিমকে টপকে যান সৌম্য। ওদিকে জয়ের লক্ষ্য কাছে চলে আসায় রান তোলায় প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা তৈরি হয় সেঞ্চুরি পূরণ নিয়ে। যে কোনও একজনের পক্ষে শতক পাওয়া সম্ভব, এমন অবস্থায় তামিম সম্ভবত সুযোগটা করে দিয়েছিলেন এগিয়ে থাকা সৌম্যকে। এই ব্যাটসম্যানকে বেশি করে স্ট্রাইক দেওয়া এবং একই সঙ্গে তার ব্যাটিংয়েও সেটা ধরা পড়েছে স্পষ্ট।

যদিও সৌম্য সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। কিমো পলের বলে বোল্ড হয়ে তাকে ফিরতে হয় ৮০ রানে। ৮১ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৫ চার ও ৫ বিশাল ছক্কায়। যদিও দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছেন তামিম। বাংলাদেশের সেরা ওপেনার ১০৪ বলে অপরাজিত ছিলেন ৮১ রানে, যাতে ছিল ৯ বাউন্ডারির মার। তার সঙ্গে দলের সিরিজ জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন ১৬ রান করা মুশফিকুর রহিম।

চোট কাটিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ফেরাটা সুখকর ছিল না তামিমের। যদিও ছন্দে ফিরতে সময় লাগেনি তার। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ২য় ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। পারফরম্যান্সের ধারা সচল রেখে শেষ ওয়ানডেও পেলেন ফিফটির দেখা। ২৪তম ওভারে দেবেন্দ্র বিশুর বল সীমানাছাড়া করে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৪তম হাফসেঞ্চুরি।

এর কিছুক্ষণ পর সৌম্যও পান ফিফটির দেখা। ব্যাটিং অর্ডারে প্রোমশন পেয়ে ৩ নম্বরে নেমে তার কার্যকরিতার প্রমাণ রাখলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সৌম্য পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি।

আক্ষেপ থাকবে লিটন দাসের জন্য। শুরুটা দারুণ হয়েছিল তার। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না এই ওপেনার। কিমো পলের বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে খেলেছিলেন ৪১ রানের ইনিংস। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে হতাশ করেছিলেন লিটন। শেষ ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল তার কাছে। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরুতে সেই প্রত্যাশার জবাব অনেকটাই মিলছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৩ রানে ভুল শট খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। কিমো পলের বলে মিড-অনে রোভম্যান পাওয়েলের হাতে ধরা পড়ার আগে ৩৩ বলের ইনিংসে মারেন ৫ বাউন্ডারি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে উল্লেখযোগ্য অবদান শাই হোপের। একাই দলকে উদ্ধার করেছেন তিনি। তার ধারে কাছেও রান করতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান এসেছে মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাটে। এছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন কেবল ড্যারেন ব্রাভো (১০) ও কিমো পল (১২)।

শুরুতেই মিরাজের স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯৯ রানে প্রতিপক্ষের হারানো ৫ উইকেটের ৪টিই তার শিকার। চন্দরপল হেমরাজ, ড্যারেন ব্রাভো, শিমরন হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েলের উইকেট নেন মিরাজ। ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তিনি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।