অরিত্রীর আগে ভিকারুননিসার শিক্ষকদের লাঞ্ছনায় আত্মহত্যা করেছিল চৈতী রায়ও!

0

সময় এখন ডেস্ক:

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীই প্রথম নয়। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্ছনা এবং অপমানে এর আগেও স্কুলটিতে ছাত্রী আত্মহননেন ঘটেছে বলে জানা গেছে।

‘তোর কি এত মেধা আছে? তুই তো গাধা। তুই বিজ্ঞানে কীভাবে পড়বি?’- স্কুলের শিক্ষকদের এমন অপমানের মুখে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে না পেরে ২০১২ সালে আত্মহত্যা করে নবম শ্রেণির ছাত্রী চৈতী রায়। শিক্ষকদের এমন রূঢ় মন্তব্যে তীব্র অভিমান বুকে নিয়ে ঘুমের বড়ি খেয়ে চিরতরে না-ফেরার দেশে চলে যায় চৈতী।

অথচ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকেই জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৬০ ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয় সে। তার ইচ্ছা ছিল ৯ম শ্রেণিতে উঠে সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করবে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হবে। তবে তার সে ইচ্ছায় বাদ সাধেন স্কুলের শিক্ষকরা।

তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘তুমি বিজ্ঞান পড়তে পারবে না। তোমার জেএসসির ফল ভালো নয়। কেবল মেধাবীরাই বিজ্ঞান পড়তে পারবে।’ চৈতীকে পড়তে দেওয়া হয় ব্যবসায় শিক্ষা, যা সে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।

২০১২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘুমের ওষুধ খেয়ে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দেয় চৈতি। হতভাগ্য এই ছাত্রীর বাবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় এখনও মেয়ের শোকে যখন-তখন ডুকরে কেঁদে ওঠেন। তার মৃত্যুর শোক এখনও কাঁদাচ্ছে তার পরিবার ও সহপাঠীদের।

অভিভাবকদের অবিযোগ, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক বিদ্যালয়ে, ক্লাসে অহরহই নির্মম, নিষ্ঠুর মন্তব্য ছুড়ে দেন। এমনকি মাত্র ১৫ দিন আগেও বেইলি রোড মূল শাখার একজন শিক্ষিকা ক্লাসে এক ছাত্রীকে উদ্দেশ করে উক্তি করেন- ‘এই পাগল-ছাগলের বাচ্চা, তোরে যে কইছি তুই শুনছ নাই?’ ক্লাসে অমনোযোগী হয়ে নোট তুলতে না পারায় ২য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি এ উক্তি করেন। শিক্ষিকার এমন আচরণে ওই ছাত্রী বাসায় গিয়ে ‘ওই ম্যাডামের ক্লাসে যাবে না’ বলে কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। পরে অভিভাবক অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে কিছুটা জোর করেই ক্লাসে পাঠান তাকে। এভাবে অপমান অপদস্ত করা হলেও নম্বর হারানোর ভয়ে শিক্ষার্থীরা মুখ খুলতে পারেন না।

এদিকে অরিত্রীর আত্মহত্যার পর বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের দুর্ব্যবহারের ব্যাপারে অভিভাবকদের অনেকে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তবে তারা বেশিরভাগই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলটিতে ২য় শ্রেণি থেকেই শিক্ষিকারা ছাত্রীদের তাদের কাছে কোচিং করার জন্য প্রলুব্ধ করেন। ৩য় শ্রেণি থেকে তা তীব্র আকার ধারণ করে। অভিভাবকদের সিংহভাগেরই অভিমত, ৩য় শ্রেণিতে উঠে একাধিক শিক্ষিকার কাছে বিষয়ভিত্তিক কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হয়। ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিংয়ে সাজেশন দেওয়া হয়। যারা কোচিং করে তারা ভালো ফলাফল করে। ফলে অভিভাবকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই সন্তানদের কোচিংয়ে পড়তে দেন।

Spread the love
  • 2.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2.6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।