শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি: ১ তারিখ আসছে ২য় ড্রিমলাইনার ‘হংসবলাকা’

0

সময় এখন ডেস্ক:

বিজয়ের মাস আসতে দেরি নাই, আর মাত্র ৩ দিন। ১ তারিখেই দেশে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে এর নাম রাখা হয়েছে ‘হংসবলাকা’। ১ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে আকাশযানটি। এর মধ্য দিয়ে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বলেন, ‘মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং আগামী ২৯ নভেম্বর নতুন ড্রিমলাইনারের মালিকানা হস্তান্তর করবে। ৩০ নভেম্বর দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে এটি রওনা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের ইভারেট থেকে টানা সাড়ে ১৪ ঘণ্টা উড়ে ঢাকায় আসবে ‘হংসবলাকা’।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি নতুন আকাশযান কেনার জন্য ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করে। ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ৬টি বিমান। বাকি ৪টি বিমান হলো বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। এর প্রথমটি অর্থাৎ ‘আকাশবীণা’ ঢাকায় আসে গত ১৯ আগস্ট। ৪টি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাকি দুটির নাম ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’।

নতুন আকাশযান যুক্ত হলে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এএম মোসাদ্দিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আকাশবীণা যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আসছে হংসবলাকা। এই ড্রিমলাইনার বহরে যুক্ত হওয়ার পর লন্ডন, দাম্মাম ও ব্যাংকক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক সেবা দিতে বিমান সচেষ্ট। অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন আকাশযানের অন্তর্ভুক্তি বিমানের জন্য সহায়ক হবে।’

বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারীর আশা, ‘আকাশবীণার পর হংসবলাকা যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ ও বিমানের মুনাফা বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মধ্য দিয়ে সম্প্রসারিত বিমান বহর দিয়ে চলমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সহজ হবে ও নতুন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ হয়ে উঠবে আরও আরামদায়ক ও আনন্দময়।’

বিমান জানিয়েছে, ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এই আকাশযান চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগে। বিমানটির ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক হলো জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই) নামের একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান। উড়োজাহাজের শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শেভরন প্রযুক্তি। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হবে ইলেক্ট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে।

কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই বিমান ওজনে হালকা। ভূমি থেকে এর উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।

ড্রিমলাইনারে আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো বানিয়েছে অ্যাসটেলা। আর ইকোনমি ক্লাসের আসনগুলো হেইকোর বানানো। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ৬৫ ইঞ্চি পিচ, ইকোনমি ক্লাসেরগুলো ৩১ ইঞ্চি পিচ। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে বিশ্রাম নিতে পারবেন।

দু’পাশের প্রত্যেক আসনের পাশে রয়েছে বড় আকারের জানালা। একইসঙ্গে জানালার শাটার বন্ধ করা ও খোলা যাবে বোতাম টিপে। জানালা থেকে শুরু করে কেবিনেও রয়েছে মুড লাইট সিস্টেম। ফলে যাত্রীরা সহজেই পরিবর্তন করতে পারবেন লাইটিং মুড। দীর্ঘ সময় ভ্রমণেও যাত্রীরা যেন ক্লান্তি অনুভব না করেন সেজন্য এর ভেতরে এয়ার কম্প্রেসার সিস্টেম। যা অন্যান্য উড়োজাহাজের তুলনায় উন্নত।

ডিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) সেবা দিতে প্যানাসনিক এভিওনিক্স কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান। প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিকের এলইডিএস-মনিটর রয়েছে। মনিটরে বিবিসি, সিএনএনসহ ৯টি টিভি চ্যানেল দেখা যাবে। একইসঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ধ্রুপদী থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র। এছাড়া রয়েছে বিমানের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত গেমস।

অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। এছাড়া মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা থাকলে আকাশে উড্ডয়নের সময় কল করতে পারবেন যাত্রীরা। এজন্য ২৫টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। উড়োজাহাজটি যে স্থানের ওপর দিয়ে যাবে, যাত্রীদের সামনে তখন স্ক্রিনে দেখা যাবে থ্রিডি ম্যাপ। একইসঙ্গে উঠে আসবে সেই স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

ড্রিমলাইনারের ককপিটে রয়েছে নতুনত্ব। সেখানে থাকছে হেডআপ ডিসপ্লে। এর মাধ্যমে চোখের সামনের প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন পাইলটরা। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঢাকায় বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এটি। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, ককপিট, ফুয়েল, নেভিগেশনসহ সব তথ্য জানতে পারবেন ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তারা। যেকোনও সমস্যা সৃষ্টি হলে তারা অপারেশন রুম থেকে পাইলটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবেন। এজন্য ঢাকায় বিমানের প্রধান কার্যালয়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সার্ভার স্থাপন করা হয়েছে।

ফ্লাইট শেষে দেশে ফেরার আগেই ড্রিমলাইনারের কোনও সমস্যা আছে কিনা তা জানতে পারবেন প্রকৌশলীরা। তাই ত্রুটি পেলে বিমানটি দেশে পৌঁছানোর আগেই প্রস্তুতি নিতে পারবেন তারা। ফলে যে কোনও সময় ককপিট থেকে ফ্লাইট অপারেশন রুমের সহায়তা নিতে পারবেন পাইলটরা। একইসঙ্গে আকাশে ওড়ার সময় আইপ্যাড ও ট্যাব ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারবেন তারা।

Spread the love
  • 556
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    556
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।