‘সাকিব ভাইর সঙ্গে কারো তুলনা হয় না, সাকিব ভাই সাকিব ভাইই’

0

স্পোর্টস ডেস্ক:

বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের এখন দারুণ সময় কাটছে। দেশসেরা স্পিন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ফিরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে দলে। দলে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজসহ উদীয়মান স্পিনার নাঈম হাসানও। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে সব আলো কেড়েছেন তাইজুলই। তবে এমন বোলিংয়ের পরেও নিজেকে সাকিবের সঙ্গে তুলনা পছন্দ করেন না এই বাঁহাতি স্পিনার। তার মতে, সারাবিশ্বে সাকিবের তুলনা হয় না।

সাকিবকে অতুলনীয় ব্যাখ্যা করে তাইজুল বলেন, ‘আসলে আমাদের এশিয়াতে বলেন বা বাইরে বলেন, সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কারো তুলনা করা যায় না। তারপরও সাকিব ভাই থাকার পরও যখন আমি উইকেট পাই, তখন অনেক ভালো লাগে। মনে হয়, একদিন সাকিব ভাইয়ের মতো হয়তো হতে না পারলেও অন্তত কাছাকাছি যেতে পারব। তবে সাকিব ভাই সাকিব ভাইই।’

শুধু টেস্ট ক্রিকেট হলেই দেশের জার্সি গায়ে জড়ান তাইজুল ইসলাম। ক্রিকেটের এই দীর্ঘ সংস্করণে বছরে খুব বেশি টেস্ট খেলা হয় না বাংলাদেশের। বছরে হাতে গোনা যে কয়টা ম্যাচ হয় তাতে জায়গা ধরে রাখতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় তাকে। এই অপেক্ষার সময়টা কীভাবে কাটান বাঁহাতি এই স্পিনার?

টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাইজুল বলেন, ‘সেই সময় আর কী করার, যদি ঘরোয়া লিগ থাকে খেলি। এছাড়া নিজে নিজে অনুশীলন করি। আসলে নিজের মধ্যে চ্যালেঞ্জটা অবশ্যই থাকতে হবে। নিজে যদি মন দিয়ে কাজ না করি তাহলে আমি নিজেই পেছনে চলে যাবো। আমি যতটুকু পারি চেষ্টা করি নিজেকে সামনে রাখার জন্য।’

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টেস্ট দিয়ে আন্তজার্তিক ক্রিকেটে অভিষেক তাইজুলের। সেই বছর ডিসেম্বরেই ওয়ানডেতেও অভিষেক হয়। যদিও অভিষেকের পর চারটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় তার। তাই সাদা পোশাকে জায়গা ধরে রাখতে বছরের পুরোটা সময় লড়াই করে যেতে হয় তাইজুলের। আর সেই লড়াইয়ে তাকে সফলই বলা চলে। কারণ ৪ বছরে মাত্র ২২ টেস্ট খেলা তাইজুল বোলিং দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

উইন্ডিজদের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে উইকেটে সেঞ্চুরি করার হাতছানি তার সামনে। তাছাড়া টেস্টে বর্ষসেরা উইকেট সংগ্রাহকের দৌড়েও এগিয়ে আছেন তিনি। এমন মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে তাইজুল নিজে কী ভাবছেন?

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মাথায় এত কিছু নেই। আমি ভালো বোলিং করার চেষ্টা করে যাব। উইকেট যদি কপালে থাকে, পাবো। আসলে ভালো বল করলে উইকেট পাওয়ার চান্সটা বেশি থাকে। আমি ভালো বল করার চেষ্টাটাই করবো।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে চার স্পিনার নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। চার জনের মাঝে তার ভূমিকা কেমন ছিল?

এ নিয়ে তাইজুল বলেন, ‘চারজন বা দুইজনের আক্রমণ হোক না কেন, আমি সবসময় রান চেক দিয়ে বল করার চেষ্টা করি। ইচ্ছে ছিল উইকেট না পেলেও রান কম দিতে। যেন অন্য প্রান্ত থেকে বোলারদের উইকেট পেতে সুবিধা হয়। ক্রিকেট খেলাটাই এমন, একজন রান দিলে একজন উইকেট নিয়ে চাপে রাখবে, আরেকজন রান চেক দিবে। ভালো করার চেষ্টা করেছি। উইকেটের বিষয়টা তো পরে, ওটা কপালের ব্যাপার।’

চলমান সিরিজে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে তাইজুলের সঙ্গে আছেন সাকিব, মিরাজ এবং নাঈম। সাকিব অভিজ্ঞ হলেও মিরাজ-নাঈম এখনো টেস্টে পরিণত নয়। তবে কম অভিজ্ঞতা নিয়েও দারুণ ছন্দে আছেন তারা। তাইজুল বিশ্বাস করেন এই ধারাবাহিকতাকে আরো উন্নত করতে পারলে সামনের দিকে বাংলাদেশকে আরো জয় উপহার দিতে পারবেন স্পিনাররা।

এ প্রসঙ্গে তাইজুলের ভাষ্য, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা আরও ডেভলপ করা সম্ভব। এজন্য একটু সময়েরও দরকার। অনেক বোলারকে দেখবেন, দুই, তিন, চার বছর খেলার পর হারিয়ে যায়। টেস্ট ক্রিকেট আসলে অনেক কঠিন। হয়তো বাইরে থেকে দেখতে এক রকম লাগে, মাঠের মধ্যে কিন্তু পরিস্থিতিটা আলাদা হয়ে যায়। যখন আমরা মাঠে নামি তখন আমাদের অনেক কিছুই পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তো সময়েরও ব্যাপার আছে। আপনি দেখবেন যে, মিরাজ মাত্র দুই বছর হয়েছে, আমার হয়তো চার পাঁচ বছর হয়েছে, নাঈমও নতুন এসেছে। সব মিলিয়ে যে খুব খারাপ হয়েছে তা বলব না। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। আমি, নাঈম, মিরাজ যখন আরও সময় পাবো, আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।

Spread the love
  • 41
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    41
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।