ফরমালিন শনাক্তে আসছে বুয়েট আবিষ্কৃত সস্তা প্রযুক্তি

0

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক:

বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজাল অনেক বড় একটি সমস্যা। এ থেকে পরিত্রাণ দিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এর গবেষকরা একধরনের প্রযুক্তি আবিস্কার করেছেন। যার মাধ্যমে একজন ক্রেতা নিজেই অতি সহজে কোনো খাদ্যে ফরমালিন আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিতে পারবেন।

বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির মধ্য থেকে বেছে নিয়েছেন লিটমাস স্ট্রিপ পদ্ধতিটি। যা সবার হাতের নাগালে পাওয়া যাবে, খরচ একেবারেই নগণ্য এবং ব্যবহারও সহজ। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে মূলত প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

এই উদ্ভাবনে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকদের প্রায় ৩ বছর সময় লেগেছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খান জানান, উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি দেশে ফেরার পর খাদ্যে ভেজালের ব্যাপকতা অনুধাবন করেন। এ সময় বাইরে অর্জিত গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি কিট উদ্ভাবনের চিন্তা আসে তার মাথায়, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত করতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, যে খাবারে ফরমালিনের উপস্থিতি যত বেশি থাকবে, উদ্ভাবিত লিটমাস পেপারটি তত বেশি গাঢ় বেগুনী রঙ ধারণ করবে। এতে সহজেই খাদ্যে বিষের আধিক্য জানা যাবে।

গবেষক সাকিব ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এ রকম একটি রাসায়নিক খুঁজে বের করা, যেটি ফরমালিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করবে এবং বিক্রিয়ার ফলে এমন একটি রঙ দেবে, যেটি সহজেই চোখে ধরা পড়ে।’

ড. মহিদুস সামাদ খানের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে এ গবেষণা। ইতিমধ্যে ৫৫ ধরনের খাদ্যপণ্যের ওপর এর সফল প্রয়োগ হয়েছে। বিভাগের প্রভাষক মো. নাজীবুল ইসলাম বলেন, ‘এ গবেষণায় আমাদের জন্য দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এক হচ্ছে খুব সহজ হতে হবে, অন্যটি হচ্ছে খুব সাশ্রয়ী হতে হবে। এ জন্য লিটমাস পেপারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এটা এমন সাশ্রয়ী হবে, যাতে আমাদের দেশের মানুষ প্রতিদিনই ব্যবহার করতে পারবে।’

অসামান্য এই উদ্ভাবনটির উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে এনেছেন গবেষকরা। দেশীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেনেটা সাধারণ মানুষের হাতে লিটমাস স্ট্রিপটি পৌঁছে দিতে এরই মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

রেনেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এম রীনাত রিজভী বলেন, ‘বুয়েটের এ রকম উদ্ভাবনে আমরা আগ্রহী হই। এ রকম একটি প্রকল্পে সম্পৃক্ত করতে পেরে আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছি। আশা করছি, খুব কম সময়ের মধ্যে এটি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছতে পারব।’

গবেষণা প্রধান ড. মহিদুস সামাদ বলেন, ‘এক সময় আমরা যখন ফরমালডিহাইডকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, তখন এই স্ট্রিপের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসবে। একজন উদ্ভাবক হিসেবে আমি সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন ওই স্ট্রিপ আর বাংলাদেশে ব্যবহার করতে হবে না।’

-ডয়েচে ভেলে।

Spread the love
  • 184
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    184
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।