মৃত্যুফাঁদ হিসেবে স্বীকৃত মহসড়কটি এখন অনেকটাই নিরাপদ

0

সময় এখন ডেস্ক:

বাংলাদেশে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মেধাবী নির্মাতা মিশুক মুনীরের মৃত্যুর পর নানা উদ্যোগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু কমে এসেছে। যদিও আগের তুলনায় যান চলাচল বেড়েছে বহুলাংশে।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট প্রখ্যাত দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পর সড়কটির ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ নানা মোড় মেরামতসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক চওড়া করে সড়ক বিভাগ। ৩ বছর পর দুর্ঘটনার হার আরও বেড়ে যাওয়ার পর আরও একটি উদ্যোগ নেয়া হয় যাতে আবারও দুর্ঘটনা কমে আসে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যখন পরিবহন শ্রমিকরা বরাবর শূলের মুখে তখন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছেন পরিবহন মালিক সমিতির মানিকগঞ্জ শাখার সভাপতি জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মহাসড়কটি এক সময় মরণফাঁদ ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুর্ঘটনা অনেকটা কমে গেছে। কিন্তু সেই আগের চালকরাই তো গাড়ি চালাচ্ছে। তার মানে পরিবহন কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সচেতন করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উদ্যোগও জরুরি।’

মানিকগঞ্জ পেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, ‘চালকদের পাশাপাশি সড়কের ত্রুটি যানবাহনের ত্রুটি কিংবা পথচারীদের অসচেতনতার সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৬১৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৩১১ জন। এর মধ্যে এসব সংস্কার কাজ শেষ করার আগের ২ বছরেই নিহত হয়েছে সিংহভাগ। এর মধ্যে ২০১০ সালে ১৪৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৮৮ জন, আহত হয় ৩২০ জন। ২০১১ সালে ১৭৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৯৬ জন, আহত হয় ৪২১ জন। অর্থাৎ ৭ বছরের ৩১১ জনের মধ্যে ২ বছরেই প্রাণ হারিয়েছে ১৮৪ জন।

২০১২ সালে সড়কে সংস্কার কাজ শেষ করার পর দুর্ঘটনা কমে হয় ৮১টি। নিহত হয় ৩১ জন, আহত হয় ১১০ জন। ২০১৩ সালে দুর্ঘটনা আরও কমে হয় ৬৮টি। নিহতের সংখ্যাও আরও কমে হয় ২৫, আহত হয়। ২০১৪ সালের ৩০টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা কমে হয় ৪ জন, আহত হয় ৪১ জন।

তবে টানা ৩ বছর কমার পর ২০১৫ সালে দুর্ঘটনা আবার বেড়ে যায়। ওই বছর ৫১টি ঘটনায় নিহত হয় ৩০ জন, আহত হয় ৬৬ জন। পরের বছর ৪৪টি ঘটনায় নিহত হয় ৩৩ জন ও আহত হয় ১১২ জন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে ২৬টি, নিহত হয় ২৪ জন ও আহত হয় ১৭ জন।

যেসব উদ্যোগ সফল হয়েছে সেখানে

২০১১ সালে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুর পর ঢাকার নবীনগর থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি ‘ব্লাক স্পট’ (ঝুঁকিপূর্ণ স্থান) শনাক্ত করে সেখানে বিভাজকসহ একটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হয়। প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচের পর এই এলাকাটি এখন মহাসড়ক নিরাপদ করার মডেলে পরিণত হয়েছে।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বিভাজক নির্মাণ করার পরেও আরেকটি সমস্যা প্রকট হয়। সংকেত না থাকায় রাতের বেলায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলো রোড বিভাজকের উপর দিয়ে তুলে দেয়ায় দুর্ঘটনা বাড়তে থাকে তখন।

এরপর ২০১৭ সালে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে আবার নতুন একটি উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন ৩০টি ব্ল্যাক স্পটে বিভাজকের সামনে ডিজিটাল সাইন বসানো শুরু হয়। এগুলো সৌর বিদ্যুতে চলে। এই সংকেতগুলো বসানোর পর রাতে বিভাজকে গাড়ি উঠিয়ে দেয়া কমেছে।

Spread the love
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।