লিঙ্গ-লেহনসহ বিবিধ যৌন নিপীড়নের দায়ে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ প্যানেল থেকে আনু মালিক বাদ!

0

বিনোদন ডেস্ক:

একই সাথে একাধিক নারী কর্তৃক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠানোর ঘটনায় বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক আনু মালিক আছেন তোপের মুখে। এ কারণে সঙ্গীতের রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল টেন’-এর বিচারকের আসন থেকে তাকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২২ অক্টোবর) থেকে ‘ইন্ডিয়ান আইডল টেন’-এর শুটিংয়ে থাকবেন না আনু মালিক। ৫৭ বছর বয়সী এই সংগীত পরিচালককে এবারের আসরের আর কোনও পর্বে দেখা যাবে না। এ বিষয়ে সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইন্ডিয়ান আইডল বিচারক প্যানেলে আনু মালিক আর নেই। তবে এই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারতীয় সংগীত জগতের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাবো আমরা।’

এদিকে আনুম মালিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইন্ডিয়ান আইডল থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, আমি কাজে মনোনিবেশ করতে পারছি না। চ্যানেলও আমার সঙ্গে একমত।’

হ্যাশট্যাগ মি টু (#metoo) আন্দোলনের অংশ হিসেবে আনু মালিকের বিরুদ্ধে প্রথমে অভিযোগ তোলেন গায়িকা সোনা মহাপাত্র। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন আরেক গায়িকা শ্বেতা পণ্ডিত।

২০০৪ সালে সনি টিভিতে প্রথম প্রচারিত হয় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’। তখন থেকে এই প্রতিযোগিতার নিয়মিত বিচারক আনু মালিক। এবারের আসরে তার পাশাপাশি আছেন বিশাল দাড়লানি ও নেহা কাক্কার।

জানা গেছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের পর্ব থেকে আনু মালিকের চেয়ারে বিচারক হিসেবে বসছেন অন্য একজন। সে হিসেবে আজ (২১ অক্টোবর) প্রচার হবে আনু মালিকের উপস্থিতিতে ইন্ডিয়ান আইডলের শেষ পর্ব।

গত সপ্তাহে টুইটারে আনু মালিককে যৌন নিপীড়নকারী হিসেবে মন্তব্য করেন শ্বেতা পণ্ডিত। টুইটে তিনি জানান, ২০০০ সালে তার বয়স ছিল ১৫ বছর। তখন একটি স্টুডিওতে তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন আনু মালিক। তিনি তখন বলেন, ‘সুনিধি চৌহান ও শানের সঙ্গে একটি গান গাওয়ার সুযোগ দেবো তোমাকে। তবে তার আগে আমাকে চুম্বন করতে হবে।’ আনু মালিকের বিরুদ্ধে ৩২ বছর বয়সী এই গায়িকার অভিযোগ এমনই।

তবে সোনা মহাপাত্র ও শ্বেতা পণ্ডিতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনু মালিক। তার আইনজীবী জুলফিকার মেমনের দাবি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আনু মালিকের পক্ষে টুইটারে সাফাই গেয়েছেন গীতিকার সমীর অঞ্জন। তিনি দাবি করেন, ‘২০০০ সালের অডিশনে আমিও ছিলাম। এমন কিছুই ঘটেনি।’

এদিকে ‘ইন্ডিয়ান আইডল ফাইভ’ প্রতিযোগিতার সহকারী প্রযোজক নিউ ইয়র্কের ড্যানিকা ডি’সুজার দাবি, আনু মালিকের যৌন হয়রানির শিকার দুই নারীকে চেনেন তিনি। মিড-ডে পত্রিকাকে ড্যানিকা জানান, কলকাতায় অনুষ্ঠানের শুটিং শেষে ফেরার পথে গাড়িতে একজন নারী প্রোডাকশন ক্রুর উরুতে হাত দেন আনু মালিক। তখন তিনি ‘ডার্লিং, বেবি, সুইটি’ নামে ডাকেন ওই নারীকে।

নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা ড্যানিকা ডি’সুজার মন্তব্য, সনি টিভিসহ প্রত্যেকেই আনু মালিকের এমন আপত্তিকর ব্যবহারের কথা জানে। কিন্তু তারা বছরের পর বছর নীরবতা পালন করেছে। তিনি বলেন, ‘এবার সবার মুখ খোলা ও শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত।’

মিড-ডে পত্রিকায় আরও দুই উঠতি গায়িকা আনু মালিককে যৌন হেনস্তাকারী হিসেবে দাবি করেন। তাদের একজনের অভিযোগ, ১৯৯০ সালে মেহবুব স্টুডিওতে আনু মালিকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এর কিছু দিন পর তার বাসায় যান ওই গায়িকা। তখন সোফায় বসে তার স্কার্ট তুলে নিজের প্যান্ট খোলেন আনু মালিক। তড়িঘড়ি তাকে সরিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই গায়িকা। কিন্তু আনুর জোরের সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না। তখনই ঘরের কলিং বেল বেজে ওঠে। এর সুবাদে রক্ষা পান তিনি। তবে এই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য নিয়মিত হুমকি দিতে থাকেন এই সংগীত পরিচালক।

এরপর একদিন ওই গায়িকাকে তার বাসায় নামিয়ে দেওয়ার সময় আবারও যৌন হেনস্তা করেন আনু মালিক। তখন বাজে রাত সাড়ে ৮টা। গাড়ি চালিয়ে অন্ধকার ময়দানে যান তিনি। ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়েন ওই গায়িকা। তাকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান। কিন্তু তখন প্যান্টের জিপার খুলে বসেন আনু মালিক। এরপর ওই গায়িকার চুল ধরে জোরপূর্বক তাকে দিয়ে নিজের লিঙ্গ-লেহন করানোর চেষ্টা করেন তিনি। কোনোরকমে গাড়ি আনলক করে ওই গায়িকা রেহাই পান।

আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গান নিয়ে স্টুডিওতে আলোচনার সময় আনু মালিক তাকে শিফনের শাড়ি পরে আসার জন্য বলেছিলেন। এরপর জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরেন। রেকর্ডিং স্টুডিও সাউন্ডপ্রুফ হওয়ায় ওই গায়িকার চিৎকার কেউ শোনেনি। এরপর আনু মালিককে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।

অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে গোটা ভারতে ‘মি টু হ্যাশট্যাগ’ আন্দোলনের ঝড় বইয়ে দিয়েছেন তনুশ্রী দত্ত। ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর দাবি, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির গানের শুটিংয়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। এরপর বলিউডে ছড়িয়ে পড়ে মি টু আন্দোলন।

এরপর একে একে অভিযোগ ওঠে পরিচালক সুভাষ ঘাই, বিকাশ বল, সাজিদ খান, লুভ রঞ্জন, অভিনেতা-নির্মাতা রজত কাপুর, অভিনেতা অলোক নাথ, অভিনেতা পীযূষ মিশ্র, গায়ক কৈলাশ খের, অভিজিৎ ভট্টাচার্য, টি-সিরিজের স্বত্বাধিকারী ভূষণ কুমার, প্রযোজক করিম মোরানি, উমেশ ঘাড়গে, কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরার বিরুদ্ধে।

Spread the love
  • 58
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    58
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।