ভুল ধারণা আর কুসংস্কারের বলি উপকারী নির্বিষ সাপ ‘দাঁড়াশ’

0

ফিচার ডেস্ক:

সাপ নিয়ে কল্প কাহিনী আর মিথ-নির্ভর চলচ্চিত্রের কারনে যে কোনো ধরনের সাপই মানুষের শত্রু বলে একটা প্রচলিত ধারনা আছে উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে। যার পেছনে ইন্ধন যোগায় অজ্ঞতা, সাপুড়েদের জোচ্চুরি, কুসংস্কার এবং অজানা ভয়।

‘দাঁড়াশ’ নামের দীর্ঘদেহী সাপটি মোটেই বিষাক্ত নয়। শুধু ভুল ধারণা আর কুসংস্কারের কারণেই প্রাণ হারাচ্ছে কৃষির উপকারী বন্ধু ‘দাঁড়াশ’ সাপ। কিছু মানুষ একে বিষাক্ত সাপ মনে করে দেখামাত্রই হত্যা করে। আর এভাবে নির্বিষ অর্থাৎ বিষমুক্ত দাঁড়াশ সাপের জীবন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।

এর প্রধান খাবার ইঁদুর বলেই এ সাপটির ইংরেজি নামেই রয়েছে প্রমাণ। এর ইংরেজি নাম Indian Rat Snake বৈজ্ঞানিক নাম Ptyas mucosa। এটি দৈর্ঘ্যে ২০০ সেন্টিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কৃষি জমির জন্য মারাত্মক হুমকি ইঁদুর খেয়ে এরা কৃষক এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্যের অভাবনীয় উপকার করে চলেছে। এই উপকারী সরীসৃপ প্রাণীটির প্রতি আরও সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যারয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণি গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, আমাদের দেশের লোকজনের মধ্যে একটি কুসংস্কার রয়েছে যে, দাঁড়াশ সাপ মানেই বিষাক্ত সাপ, একে দেখলে মারবেই এরকম। এটি আকারেও বড় এবং দেখতে অনেকটা বিষাক্ত গোখরার মতো। এ সবকিছু দেখেই লোকজন মনে করে ‘দাঁড়াশ’ও খুবই বিষাক্ত সাপ এবং তাকে মারা উচিৎ। অথচ এ সাপটি সম্পূর্ণভাবে বিষমুক্ত।

বিষের ভুল ধারণা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের এটাও ধারণা আছে যে তার শুধু মুখে নয় লেজেও নাকি বিষ আছে। মুখের পরিবর্তে লেজ দিয়ে আঘাত করলে ওই আঘাতের স্থানটি ধীরে ধীরে পচে যাবে। আসলে এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এই কুসংস্কারের কারণেই এ প্রজাতির সাপগুলো প্রাণ হারাচ্ছে।

উপকারের কথা উল্লেখ করে এ গবেষক বলেন, এদের প্রধান ও পছন্দের খাবার হলো ইঁদুর। তাই এরা ফসলি জমির আশপাশে থাকে এবং ফসলের ক্ষতিকারক ইঁদুর খেয়ে উপকার করে। ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সাপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা না জেনে এই উপকারী প্রাণীটাকে হত্যা করে থাকি।

প্রাপ্তিস্থান উল্লেখ করে ড. কামরুল বলেন, এ সাপটি সারাদেশেই পাওয়া যায়। তাই এখনও থ্রেড ক্যাটাগরিতে আসেনি। তবে আগে যেরকম পাওয়া যেত তা আস্তে আস্তে কমে আসছে। এর কারণ হচ্ছে তার আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজনন সমস্যা। এছাড়াও দ্বিতীয় কারণ হলো, লোকজনের হাতে প্রচুর পরিমাণ মারা পড়ে এই সাপটি।

এই দাঁড়াশ সাপটি যেমন নির্বিষ তেমন একেবারে নিরীহ প্রজাতির। হাত দিয়ে ধরলেও বেশি নড়াচড়া করে বা রেগে উঠে না। তবে কোনো কারণে এই সাপ রেগে গিয়ে কাউকে যদি কামড়ও দেয় তাতেও কিছুই হবে না বলে জানান প্রখ্যাত বন্যপ্রাণি গবেষক ড. কামরুল হাসান।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।