‘রতনে রতন চিনে, শিয়ালে চিনে কচু, ড. কামালও নেতা মেনেছেন খুনি তারেককে’

0

সময় এখন ডেস্ক:

ঐক্য প্রক্রিয়া ভেঙে বিএনপির সঙ্গে গিয়ে জোট বাঁধায় গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনকে ‘বাহবা’ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বলেছেন, নৌকা থেকে নেমে এখন ধানের শীষে হাল ধরেছেন কামাল হোসেন গংরা। এই জগাখিচুড়ির ঐক্য দিয়ে বিএনপি তরী পার হতে পারবে না বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার পদ্মা সেতু পরিদর্শন শেষে মাদারীপুরের শিবচরে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন দলটির সভাপতি। এ সময় তিনি আগের দিন ঘোষণা হওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত এই ঐক্যে কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ছাড়াও আছে বিএনপি, জেএসডি এবং নাগরিক ঐক্য। কামাল হোসেন তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আওয়ামী লীগেই ছিলেন। তবে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি দল ছেড়ে গঠন করেন গণফোরাম। কিন্তু রাজনীতিতে গুরুত্ব পাননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কামাল হোসেনকে সাবাশ জানাই, কারণ তিনি আমাদের দল ছেড়ে নৌকা থেকে নেমে ধানের শীষের মুঠো ধরেছেন। যে ধানে শীষ নেই, আছে শুধু চিটা। যাদের সাথে তিনি (কামাল হোসেন) হাত মিলিয়েছেন, তারা খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অবশ্য কামাল হোসেন এটা করতেই পারেন। কারণ তিনি কালো টাকা সাদা করতে পারেন। তারেক জিয়া, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করার কারখানা তৈরি করেছেন। বিষয়টি ‘রতনে রতন চিনে, শিয়ালে চিনে কচু’। এই কারণেই তাদের সাথে কামাল হোসেন গংরা হাত মিলিয়েছে। তাদের সাথে ন্যায়ের ঐক্য হতে পারে না।’

প্রসঙ্গত, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কালো টাকা সাদা করেছেন বলে সে সময়ের জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। অবশ্য টাকার অংক কখনও জানা যায়নি আর গণফোরাম নেতা এ নিয়েও কথা বলেননি।

বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আবারও ড. কামালকে কটাক্ষ করেন। বলেন, ‘আমি কামাল হোসেন সাহেবকে বাহবা জানাই। তবে, তিনি কার সঙ্গে ঐক্য করেছেন? তিনি কাকে নেতা মেনেছেন? যে পলাতক, যে বিদেশে, যে মানিলন্ডারিং কেসে সাজাপ্রাপ্ত। ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তার অধীনেই কামাল হোসেন গংরা ঐক্য করেছেন। তারা আজ খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ওই খুনিদের তো মানুষ ক্ষমতায় চায় না। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে, যারা মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, যারা এতিমের টাকা চুরি করে খায়, তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন ড. কামাল হোসেন গং। সঙ্গে জুটেছে কিছু খুচরা আধুলিও।’

এর আগে রবিবার তিনি পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা অংশ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১২টার দিকে পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা অংশে এসে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করে। এসময় তিনি পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-টুতে জোহরের নামাজ পড়েন ও দুপুরের খাবার খান।

বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় আসেন। পরে তিনি ৪টা ৫ মিনিটে থেকে টানা ৩২ মিনিট বক্তব্য রাখেন। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও তুলে ধরেন।

‘ক্ষমতায় এলে আরও উন্নয়ন’

ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে পারলে আরও উন্নয়ন হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এদেশে কোন ঘর অন্ধকার থাকবে না। সব ঘরে আলো পৌঁছে দেয়া হবে। যেটা কেউ করতে পারে না, সেটা আওয়ামী লীগ করতে পারে। আমরা এদেশকে শিল্প উন্নয়ন দেশ করতে চাচ্ছি। কৃষি খাতকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে যেতে চাই। এজন্যে কৃষি খাতে কৃষি উপকরণসহ নানা রকমের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। এখন কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে সুবিধা নিতে পারছে। আমাদের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে পারছে। যা এই আওয়ামী লীগ সরকার করছে।’

পদ্মার রেল সংযোগের উদ্বোধন

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে গিয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন, মূল নদী শাসন কাজ সংলগ্ন স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের উদ্বোধন, পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নামফলক উন্মোচন এবং পাঁচ্চর-ভাঙ্গা ১ হাজার ৩৯০ মিটার ৬ লেন সড়কের কাজেরও উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। পরে বিকেলে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট এলাকায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন।

শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে স্থানীয় ও জাতীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

জনারণ্য জনসভার মাঠ

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ব্যাপক চাঞ্চল্যের তৈরি হয় মাদারীপুরে। সকাল ৮টার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আসতে শুরু করেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ২টা পর্যন্ত স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের পরিচালনায় সমাবশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক সংসদের উপ-নেতা সাজেদা চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুরের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সার্বিক পরিচালনা ও সমন্বয়ক ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন।

Spread the love
  • 13.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13.7K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।