‘আপনারা সমাধান না পেলে আমার মোবাইলে একটা ম্যাসেজ তো দিতে পারেন’

0

সময় এখন ডেস্ক:

ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএইচ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেছেন, সেটি নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল আগেই। ২০১৩ সালে ওই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের সময়ই এর নকশা তৈরি করে অনুমোদনও নেয়া হয়। কিন্তু তৈরি কে করবে, টাকা আসবে কোত্থেকে- এই প্রশ্নে আটকে ছিল নির্মাণ কাজ।

রবিবার প্রকল্প উদ্বোধন করতে এসে এই কথা জানিয়ে তার খেদের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উচ্চপদস্থ সরকারি চাকুরেদের বলেছেন, তারা কোনো কিছুর সমাধান করতে না পারলে যেন তার ফোনে অন্তত এসএসএম দেয়া হয়।

এই এলাকাতে গত ২৯ জুলাই বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। আর এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের সময় থেমে যাওয়া প্রকল্পটি গতি পায়। প্রধানমন্ত্রী এর বিষয়ে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীকে এটি নির্মাণের দায়িত্ব দেন আর সড়ক এবং ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয় খরচ দেয়ার কথা বলে।

প্রথানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই আন্ডারপাসটি নির্মিত হলে হয়ত দুই ছাত্রকে হারাতে হতো না। যখনই আমাদের রেডিসন হোটেল হলো, মেডিকেল কলেজ হলো, এখানে স্কুল, এখানে ফ্লাইওভার করা হয়েছে, তখন থেকেই ডিজাইন নিয়ে বসে আছে।’

আরও পড়ুন  কেসিসি নির্বাচন: খুলনায় বিএনপির মুখ থুবড়ে পড়ার কারনগুলো কী?

২০১৩ সালে এমইএইচ এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ শেষ হয় আর এটি উদ্বোধনের পর মিরপুর এলাকার সঙ্গে উত্তরার যাতায়াত সহজ হয়েছে। পাশাপাশি বনানী রেল ক্রসিংয়ে যানবাহনকে আর আটকে থাকতে হচ্ছে না। তবে আর সেই আন্ডারপাস প্রকল্পের কথা ভুলে যায় সবাই। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এই বিষয়টি আবার সামনে আসে এবং প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।

‘আমাকে বলল, টাকা দেবে কে? ডিজাইন হয়ে আছে, প্লান হয়ে আছে, কাজ শুরু করবে, কিন্তু টাকা দেবে কে? আর কে করবে। সাথে সাথে আমি বললাম, সেনাবাহিনী করবে আর টাকা ছাড়ের জন্য একনেকে…। একবার বলা হলো এটা সিটি কর্পোরেশন বা এলজিইডি মিনিস্ট্রির। এলজিআরডি মিনিস্টার বললেন, ‘এটাতে আমরা টাকা দেব’। সঙ্গে সঙ্গে সড়ক মিনিস্টার বললেন, ‘না, এটা আমরা করতে পারি’। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে কিন্তু এই প্ল্যানটা তৈরি করে বসে আছে’- আক্ষেপের সঙ্গে বলেন শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশকে 'শেখ হাসিনার বাপের দেশ' বলে কটাক্ষ: কোটা-নেতা রাশেদকে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার

‘আপনারা যদি একটু খবর দেন যে এই সমস্যা, আমি তো অফিসেই থাকি, তাহলে আমরা কিন্তু সমাধান করে দিতে পারি। কিন্তু এই কাজগুলোর জন্য যেন কালক্ষেপণ না হয়। আজকে যদি এই কালক্ষেপণটা না হতো, তাহলে হয়ত অ্যাক্সিডডেন্টটা হতো না। এভাবে দুটো জীবন যেত না।’

এই সমন্বয়হীনতা নানা জায়গায় আছে উল্লেখ করে এর অবসানের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বাংলাদেশে এটা একটা সমস্যা। রাস্তা কার, জায়গা কার, লেক থাকলে পানি কার, পার্ক কার, লেকের ভেতরে মাটি কার, এটা নিযে একটা বিতর্ক হয়। আমি মনে করি এ নিয়ে আর বিতর্ক হওয়া উচিত না, এর জন্য আমাদেরকে একটা ব্যবস্থা নিতে হবে যে এই ধরনের যেন আর না হয়। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, এখানে বড় বড় আমলারা বসে আছেন, সবাই আছেন তাদেরকে বলব, আপনারা যদি কোনো সমস্যার সমাধান করতে না পারেন, তাহলে তো আমি ২৪ ঘণ্টাই আছি; ২৪ ঘণ্টার না, হয়ত ৫-৬ ঘণ্টা আমার নিজের থাকে, বাকি সময় আমাকে পাবেন। যখনই চান, আমার মোবাইল ফোন আছে, ম্যাসেজ দিলে পাবেন।’

আরও পড়ুন  শোকাবহ অাগষ্ট মাসেই বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা হলো!

বিমানবন্দর সড়কের এই আন্ডারপাসটা নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই এলাকা ছাড়াও মানিকমিয়া অ্যাভিনিউ এবং বিমানবন্দর মোড় রেল স্টেশন থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত আরও দুটি আন্ডারপাস হবে বলেও অনুষ্ঠানে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার আধা ঘণ্টার বক্তব্যে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলেন, শিশুরা চোখ খুলে দিয়েছে এখন সবাই যেন চলাচলের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলেন। যানবাহনে বিশৃঙ্খল চলাচল আর লাইসেন্সহীন ও ফিটনেসহীন গাড়ি যেন নামতে না পারে, সেজন্য কঠোর নির্দেশনাও দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গুজব ছড়িয়ে তৃতীয় পক্ষের সুযোগ নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে কিছু শুনলে যাচাই বাছাই না করে বিশ্বাস করার প্রবণতা ছাড়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

Spread the love
  • 14.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14.6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।