প্রবাসীর স্ত্রী জনসম্মুখে লাঞ্ছিত, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

0

কুমিল্লা সংবাদদাতা:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সামজিক বিচারের নামে জনসম্মুখে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় দোষী ৪ দেবর এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এরপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর একথা জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। আমি দাউদকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি তদন্ত কমিটি করতে নির্দেশ দিয়েছি।’

দাউদকান্দি থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ আফরোজকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

১ আগস্ট দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বেকিসাত পাড়া গ্রামের প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রীকে সালিশ বৈঠকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নির্যাতিত নারীর বোন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করে। ওই সালিশ বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে এমন নির্যাতনের ঘটনা কেন ঘটলো উত্তর চেয়ে একটি শোকজ নোটিশ দিয়েছি। শোকজ নোটিশ সন্তোষজনক না হওয়ায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন,‌ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুলসহ আরেক আসামি বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

গতকাল সময় এখন ডটকমে ‘চেয়ারম্যান আর গ্রামবাসীর সামনেই ৪ দেবরের হাতে লাঞ্ছিত ভাবী‍! (ভিডিও)’ শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে ‘পরকীয়ায় জড়িত’ অভিযোগে দাউদকান্দি বারপাড়া গ্রামের আলম নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে জোর করে ওই গৃহবধূর ঘরে আটকে রাখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। আটক দু’জনের ওপর রাতভর দফায় দফায় নির্যাতন চালায় প্রবাসী কবিরের ভাই সাইফুল, বাবুল, মিন্টু, মোস্তাক ও আরেক ভাই খোকনের স্ত্রী। পরদিন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে সামাজিক বিচারের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠক চলাকালে প্রতিবেশী মিন্টু মাতব্বরদের নির্দেশে লাঠি দিয়ে ওই নারীকে পেটানো হয়। এছাড়া পেটানো হয় আলমকেও।

Spread the love
  • 996
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    996
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।