রাইফার মৃত্যু: বহুল আলোচিত তদন্ত রিপোর্ট নাকি তদন্ত সাহিত্য!

0

সময় এখন ডেস্ক:

একাত্তর থেকে বিবিসি, হট টপিক্স একটাই- চিকিৎসকের অবহেলায় ম্যাক্স হাসপাতালে রোগীর মৃত্য, চাকুরি থেকে অব্যাহতি!

কে বলেছে চিকিৎসকের অবহেলা? উত্তর- একজন শিক্ষক, একজন আমলা ও একজন সাংবাদিক।

তদন্তের টার্মস রেফারেন্স এর বাইরে গিয়ে সাহিত্যিক তদন্ত রিপোর্ট হয়তো একদিন বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই তদন্ত কমিটিকে নেগলিজেন্সি প্রমানের অথিরিটি দিয়েছে কে? আমি জানতাম বিএমডিসি, ভুল হলে শুধরে দিবেন।

যখন একটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, তখন তার Terms of References ঠিক করে দেয়া হয়। চট্রগ্রামের ম্যাক্স হাস্পাতালের ঘটনায় সিভিল সার্জনকে প্রধান করে এবং একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ও একজন সাংবাদিককে সদস্য করে স্থানীয়ভাবে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, সেটার টার্মস অফ রেফারেন্স কী ছিল? কিংবা আদৌ নির্ধারিত ছিল কি? না থাকলে কমিটির রিপোর্টটির কোন আইনগত বৈধতা নেই। আর যদি থাকে, তাহলে তাদের টার্মস অফ রেফারেন্সের বাইরে গিয়ে কোন কিছু তদন্তের বা প্রতিবেদনে সেটা উল্লেখের কিংবা সেগুলো সম্পর্কে কোন সুপারিশ প্রদানের এখতিয়ার সেই কমিটির নেই।

প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ওপরে লেখা আছে মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন। এতে ধারনা করা যায়, মৃত্যুর কারন উদঘাটন করাই এই কমিটির দায়িত্ব ছিল। যদি তাই হয়, তাহলে সেই কারন নেই কেন প্রতিবেদনে? কেন অন্যান্য অপ্রাসংগিক বিষয়ের অবতারনা করা হয়েছে এতে?

টার্মস অফ রেফারেন্সে যদি ভুল চিকিৎসার অভিযোগের তদন্তের কথা বলা হয়ে থাকে, তাহলে সেটাই তদন্তের বিষয় হওয়া উচিৎ। অবহেলা, অদক্ষতা এসবের প্রসঙ্গ আসতেই পারে না তখন তদন্তে।

অবহেলার কিন্তু ব্যাপক অর্থ! এখানে চাইলে অনেক কিছুই অন্তর্ভূক্ত করা যায়, আবার চাইলে অনেক কিছুই ইগনোর করাও যায়। যদি চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তের কথা সুষ্পষ্টভাবে বলা না থাকে টার্মস অফ রেফারেন্সে, অথবা যদি টার্মস অফ রেফারেন্স বহির্ভূত কোন বিষয়ে প্রতিবেদনে কোন মন্তব্য (Inference) করা হয় কিংবা সেগুলো সম্পর্কে কোন সুপারিশ করা হয়, তাহলে সংক্ষুব্ধ যে কেউ এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনের সাহায্য নিতে পারবে।

আরেকটা কথা- মৃত্যু বা এসংক্রান্ত কোন তদন্তের প্রতিবেদন বেসরকারীভাবে করিয়ে সেটার ভিত্তিতে ব্যাবস্থা নেয়া কোনক্রমেই আইনগত ভাবে বৈধ নয়।

অবহেলার কথা আসলে অনেক অপ্রিয় প্রসঙ্গ সম্পূরকভাবে চলে আসবে।

হাসপাতালে ডিপ্লোমা নার্স ছিল না- মাননীয় সিভিল সার্জনের নেগলেজেন্সির কী হবে?

রাইফার মৃত্যুর কারন দেশবাসী জানতে চায়। মাননীয় শিক্ষক, তদন্ত রিপোর্টে আপনার সেই সম্পর্কিত তদন্তের নমুনা কই?

সাংবাদিকদের নিয়ে কিছু বলতে চাই না। চাইলে মিছিল মিটিং করতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাটগাঁতে বলির পাঁঠা লাগবে। হয়তো দেশের স্বাস্থ্য বিভাগেরও বলির পাঁঠা দরকার। যদি আসলেই এই অবিচার ও অসম্মানের বিচার চায় দেশের সচেতন, ডিগনিটিসম্পন্ন চিকিৎসক সম্প্রদায়, তাহলে মিছিল মিটিং করেন বা না করেন কোর্টে যান। কর্তৃপক্ষের নেগলেজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করেন। একটি ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত কমিটির অবৈজ্ঞানিক, অস্পস্ট তদন্ত রিপোর্টের জোরে সংঘটিত কনসিকুয়েন্সে মানহানির মামলা করেন।

ডাক্তার সাংবাদিক, অমুক তমুক এগুলো ফেইক ক্লাসিফিকেশন, মুল ক্লাসিফিকেশন হচ্ছে পাত্তি আর ক্ষমতায় উচু ক্লাস বনাম নিচু ক্লাস।

মিছিল, মিটিং, অবরোধে আমি নাই, কেউ কোর্টে যেতে ইচ্ছুক হলে বিকাশ নাম্বারটি প্লাটফর্মে দিয়েন। চাটগাঁ থেকে ৩০০ কিমি দুর থেকে আমার দায়িত্বটা পালন করবো।

হ্যাপি, ফেসবুকিং।

লেখক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।